আল্লাহ্ যা নাযিল করেছেন সে অনুযায়ী যারা বিচার ফায়সালা করে না তারাই কাফের। আর এই কাফেরদেরকেই আল্লাহ্ যালেম বলেছেন এবং ফাসেক বলেছেন। অথচ অনুমান নির্ভর মানুষের বানানো মতামতের ভিত্তিতে মুসলিম রাষ্ট্রের কাফের রাষ্ট্র প্রধানকেই(৫ঃ৪৪,৪৫,৪৭) বলা হচ্ছে ‘মুমিন তবে যালেম রাষ্ট্র প্রধান’ ‘মুমিন তবে ফাসিক রাষ্ট্র প্রধান’???!!! কিন্তু কুরআন বিরুধী এই মতের পক্ষে সহী হাদিস দূরের থাক যইফ, জাল হাদিসও পৃথিবীতে নাই।

যালেম অর্থ ‘বড় সীমালঙ্ঘনকারী’ পবিত্র কুরআনে প্রায় ৩১৫ বার এসেছে যালেম শব্দটি। আর বেশীর ভাগ এই শব্দটি ব্যবহার হয়েছে যারা আল্লাহ্কে অস্বীকার করতো, যারা কুরআনের আয়াতকে অস্বীকার ও ঠাট্টা বিদ্রুপ করতো, পরকালকে অস্বীকার করত তাদেরকেই আল্লাহ্ জালেম বলেছেন। আর এরা যে কাফের সেটা বুজার জন্য আপনাকে মুফতি মোহাদ্দেস হতে হবেনা। নিরপেক্ষ মন নিয়ে কুরআন পড়লেই বুজতে পারবেন। লিখা বড় হয়ে যাওয়ার আশংকায় অনেক আয়াতের মধ্যে কিছু আয়াত উল্লেখ করছি।

আল-আন‘আম ৬:২১

وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنِ ٱفْتَرَىٰ عَلَى ٱللَّهِ كَذِبًا أَوْ كَذَّبَ بِـَٔايَٰتِهِۦٓۗ إِنَّهُۥ لَا يُفْلِحُ ٱلظَّٰلِمُونَ 

তার থেকে বড় যালিম আর কে আছে যে আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যে রচনা করে অথবা তাঁর নিদর্শনসমূহকে প্রত্যাখ্যান করে? যালিমরা কক্ষনো সফলকাম হবে না। 

আল-আন‘আম ৬:৯৩

وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنِ ٱفْتَرَىٰ عَلَى ٱللَّهِ كَذِبًا أَوْ قَالَ أُوحِىَ إِلَىَّ وَلَمْ يُوحَ إِلَيْهِ شَىْءٌ وَمَن قَالَ سَأُنزِلُ مِثْلَ مَآ أَنزَلَ ٱللَّهُۗ وَلَوْ تَرَىٰٓ إِذِ ٱلظَّٰلِمُونَ فِى غَمَرَٰتِ ٱلْمَوْتِ وَٱلْمَلَٰٓئِكَةُ بَاسِطُوٓا۟ أَيْدِيهِمْ أَخْرِجُوٓا۟ أَنفُسَكُمُۖ ٱلْيَوْمَ تُجْزَوْنَ عَذَابَ ٱلْهُونِ بِمَا كُنتُمْ تَقُولُونَ عَلَى ٱللَّهِ غَيْرَ ٱلْحَقِّ وَكُنتُمْ عَنْ ءَايَٰتِهِۦ تَسْتَكْبِرُونَ 

তার থেকে বড় যালিম আর কে যে আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যে কথা রচনা করে অথবা বলে, আমার প্রতি ওয়াহী নাযিল হয়; যদিও তার কাছে কিছুই অবতীর্ণ হয় না। আর যে বলে : আল্লাহ যা নাযিল করেন আমি শীঘ্রই তার অনুরূপ নাযিল করব। হায়! যদি তুমি ঐ যালিমদেরকে দেখতে পেতে যখন তারা মৃত্যু যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকবে, আর ফেরেশতারা হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলবে, তোমাদের জানগুলোকে বের করে দাও, আজ তোমাদেরকে অবমাননাকর আযাব দেয়া হবে যেহেতু তোমরা আল্লাহ সম্পর্কে এমন কথা বলতে যা প্রকৃত সত্য নয় আর তাঁর নিদর্শনগুলোর ব্যাপারে ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করতে। 

ইউনুস ১০:১৭

فَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنِ ٱفْتَرَىٰ عَلَى ٱللَّهِ كَذِبًا أَوْ كَذَّبَ بِـَٔايَٰتِهِۦٓۚ إِنَّهُۥ لَا يُفْلِحُ ٱلْمُجْرِمُونَ 

তার চেয়ে বড় যালিম আর কে হতে পারে যে মিথ্যা রচনা ক’রে আল্লাহর নামে চালিয়ে দেয় অথবা আল্লাহর আয়াতসমূহকে মিথ্যা বলে ঘোষণা করে; নিশ্চিতই অপরাধীরা সাফল্য লাভ করতে পারে না। 

হুদ ১১:১৮

وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنِ ٱفْتَرَىٰ عَلَى ٱللَّهِ كَذِبًاۚ أُو۟لَٰٓئِكَ يُعْرَضُونَ عَلَىٰ رَبِّهِمْ وَيَقُولُ ٱلْأَشْهَٰدُ هَٰٓؤُلَآءِ ٱلَّذِينَ كَذَبُوا۟ عَلَىٰ رَبِّهِمْۚ أَلَا لَعْنَةُ ٱللَّهِ عَلَى ٱلظَّٰلِمِينَ 

যারা আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যা রচনা করে তাদের থেকে বড় যালিম আর কে হতে পারে? তাদেরকে তাদের প্রতিপালকের সামনে উপস্থিত করা হবে আর সাক্ষীরা সাক্ষ্য দিবে যে, এই লোকরাই তাদের রব্বের বিরুদ্ধে মিথ্যা বলেছিল। শুনে রেখ! আল্লাহর অভিশাপ সেই যালিমদের উপর। 

ফাসিক শব্দের অর্থ ‘সত্যত্যাগী’। ফাসিক শব্দটি পবিত্র কুরআনে মোট এসেছে ৫৪ বার। ফাসিক শব্দ দিয়ে আল্লাহ্ কুরআনের আয়াত অস্বীকারকারী কাফেরদেরকেই বুজিয়েছেন।

আল-বাকারাহ ২:৯৯

وَلَقَدْ أَنزَلْنَآ إِلَيْكَ ءَايَٰتٍۭ بَيِّنَٰتٍۖ وَمَا يَكْفُرُ بِهَآ إِلَّا ٱلْفَٰسِقُونَ 

এবং আমি তোমার নিকট সুস্পষ্ট আয়াত নাযিল করেছি, ফাসিকরা ছাড়া অন্য কেউ তা অস্বীকার করে না।

আলি ‘ইমরান ৩:৮২

فَمَن تَوَلَّىٰ بَعْدَ ذَٰلِكَ فَأُو۟لَٰٓئِكَ هُمُ ٱلْفَٰسِقُونَ 

অতঃপর যারা(সত্য থেকে) মুখ ফিরিয়ে নিবে তারাই হল ফাসেক। 

আল-মা’ইদাহ ৫:৫৯

قُلْ يَٰٓأَهْلَ ٱلْكِتَٰبِ هَلْ تَنقِمُونَ مِنَّآ إِلَّآ أَنْ ءَامَنَّا بِٱللَّهِ وَمَآ أُنزِلَ إِلَيْنَا وَمَآ أُنزِلَ مِن قَبْلُ وَأَنَّ أَكْثَرَكُمْ فَٰسِقُونَ 

বল, ‘ওহে কিতাবধারী সম্প্রদায়! তোমরা এ ছাড়া অন্য কারণে আমাদের প্রতি রাগান্বিত নও যে, আমরা আল্লাহর প্রতি এবং আমাদের প্রতি আর আমাদের পূর্বে যা নাযিল হয়েছিল তার প্রতি ঈমান এনেছি, তোমাদের অধিকাংশই তো হচ্ছে ফাসিক।’ 

আল-মা’ইদাহ ৫:৮১

وَلَوْ كَانُوا۟ يُؤْمِنُونَ بِٱللَّهِ وَٱلنَّبِىِّ وَمَآ أُنزِلَ إِلَيْهِ مَا ٱتَّخَذُوهُمْ أَوْلِيَآءَ وَلَٰكِنَّ كَثِيرًا مِّنْهُمْ فَٰسِقُونَ 

তারা যদি আল্লাহর, নাবীর ও তার প্রতি যা নাযিল হয়েছে তার উপর ঈমান আনতো তবে তাদেরকে (অর্থাৎ কাফিরদেরকে) বন্ধুরূপে গ্রহণ করত না, কিন্তু তাদের অধিকাংশই ফাসিক। 

যে সমস্ত মুসলিম রাষ্ট্রে কিছু কুরআনের আইন ছিল কিন্তু রাষ্ট্র প্রধান তা বাতিল করে দিয়েছে। তার এই কাজ কি কুরআন অস্বীকারীদের অন্তর্ভুক্ত নয়???

যে সমস্ত মুসলিম রাষ্ট্রে কুরআন বিরুধী আইন পাশ হয় তা কি প্রকারন্তে কুরআন কে অস্বীকার করা নয় কি???

এরপর কি বলবেন যারা কুরআন দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করেনা তারা মুসলিম??? 

মানুষের অনুমান নির্ভর কথা আল্লাহর কাছে কোন মূল্য নেই। আল্লাহ্ বলেন—

আন-নাজ্‌ম ৫৩:২৮

وَمَا لَهُم بِهِۦ مِنْ عِلْمٍۖ إِن يَتَّبِعُونَ إِلَّا ٱلظَّنَّۖ وَإِنَّ ٱلظَّنَّ لَا يُغْنِى مِنَ ٱلْحَقِّ شَيْـًٔا 

অথচ এ বিষয়ে তাদের কোনই জ্ঞান নেই, তারা কেবল অনুমানেরই অনুসরণ করছে, আর প্রকৃত সত্যের মুকাবালায় অনুমান কোনই কাজে আসে না। 

কুরআন সত্য মিথ্যার ফয়সালা।

আত-তারিক ৮৬:১৩

إِنَّهُ لَقَوْلٌ فَصْلٌ

নিশ্চয় কোরআন সত্য-মিথ্যার ফয়সালাকারী বানী।

Print Friendly, PDF & Email

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।