হে মুমিনগণ, যখন তোমরা সালাতের জন্যে দাড়াও, তখন স্বীয় মুখমন্ডল ও হাতসমূহ কনুই পর্যন্ত ধৌত কর, মুছেহ কর মাথা এবং পদযুগল গিটসহ।

কুরআন , সুরা মায়েদা ৫:৬

এই হলো কুরআনে ওযুর নির্দেশনা যাতে রয়েছে ৪টি খুব সহজ ধাপ:

১. মুখ ধোওয়া,

২. কনুই পর্যন্ত হাত ধোওয়া,

৩. মাথা মসেহ করা, এবং

৪. পায়ের গিরা পর্যন্ত মসেহ করা। 

কুরআনে এই সুস্পষ্ট আদেশ থাকা সত্ত্বেও, বর্তমানে বেশিরভাগ মুসলিম তাদের ওযু অন্যরকমভাবে করেন। তারা যে ওযু করে তাদের তথাকথিত দাবী অনুসারে এটি তাদের নবীর ‘সুন্নাহ’ (পদ্ধতি) থেকে নেওয়া হয়।

একরকম তারা বিশ্বাস করে যে নবী স্রষ্টার দ্বারা নির্ধারিত ওযু ত্যাগ করেছিলেন এবং একটি সংশোধিত অযু প্রবর্তন করেছিলেন! কুরআনে বর্ণিত চারটি পদক্ষেপ ছাড়াও আবশ্যক ভাবে তারা কব্জি, মুখ, নাক, কান এবং ঘাড় ধোয়া / মসেহ করা পদ্ধতি যোগ করে থাকে ।

তাদের যুক্তি: যেহেতু ‘পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বিশ্বাসের অঙ্গ (যেমন একটি বিখ্যাত হাদিসে বলা হয়েছে), তাই সালাতের পূর্বে যে যত বেশি পরিষ্কার তত তার জন্য ভালো । এই অতিরিক্ত ব্যবস্থা যা কুরআনের অজুতে পাওয়া যায় না সেগুলি নিম্নলিখিত প্রশ্নগুলি উত্থাপন করে:

১. এটা কি ভাবা যায় যে নবী যাকে কুরআনে বলা হয়েছে বিশ্বাসীদের জন্য তিনি একজন “উত্তম উদাহরণ” (৩৩:২১) এবং যাকে কুরআন গ্রহণের মাধ্যমে আশীর্বাদ ধন্য করা হয়েছে, যাকে আল্লাহ ওহী অনুসরণ করার আদেশ করেছিলেন এবং এর বাইরে আর কিছুই নয় (৫:৪৮ এবং ৪৬:৯) তিনি আসলে কুরআনের অযুর নির্দেশ উপেক্ষা করে অন্যরকম একটি পদ্ধতি বা বিন্যাস তৈরি করেছিলেন?

২. স্রষ্টা নির্দেশিত অযু কি অপর্যাপ্ত ছিলো?

৩. পূর্ববর্তী প্রশ্নটি শেষ পর্যন্ত যে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের দিকে নিয়ে যায়; সবকিছুর পরেও অযু উদ্দেশ্য এবং লক্ষ্য কি পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা?

উপরের তিনটি প্রশ্নেরই উত্তর নেতিবাচক। 


ওযুর উদ্দেশ্য

হে মুমিনগণ, যখন তোমরা সালাতের জন্যে দাড়াও, তখন স্বীয় মুখমন্ডল ও হাতসমূহ কনুই পর্যন্ত ধৌত কর, মুছেহ কর মাথা এবং পদযুগল গিটসহ। সুরা মায়েদা ৫:৬

ভেবে দেখুন, যদি সর্বশক্তিমান স্রষ্টা তাঁর ইচ্ছানুসারে অযু করার জন্য এমন একটি নিখুঁত, বাহুল্য বর্জিত এবং যথাযথ প্রণালী দিয়ে থাকেন, এবং স্রষ্টার আদেশের ক্ষেত্রে সর্বকালে একজন মুসলিমের বক্তব্য হলো, “আমরা শুনলাম এবং আমরা মেনে নিলাম” এবং অক্ষরে অক্ষরে সেটি অনুসরণ করার কথা; কিন্তু না! একটি দুঃখজনক সত্য যে মুসলিমদের সংখ্যাগরিষ্ঠরা স্রষ্টার সুনির্দিষ্ট করা অযুর নির্দেশনা অনুসরণ করে না বরং সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি ফর্ম্যাটকে অনুসরণ করে !

তারা যে অযু পালন করে সেটিকে তাদের বোঝানো হয়েছে সুন্নাহ (নবী মুহাম্মদ সা. এর পদ্ধতি) হিসেবে। তারা একটি অযু পদ্ধতি অনুসরণ করে যা তারা বিশ্বাস করে যে নবী মুহাম্মদ সা এর পদ্ধতি। 

কুরআনে নির্দেশিত চারটি ধাপ ছাড়াও এখানে রয়েছে:

১. হাত কব্জি পর্যন্ত ধোওয়া

২. মুখ ধোওয়া

৩. নাকের ভিতরে ধোওয়া

৪. কানের বর্হিভাগ মসেহ করা 

৫. ঘাড় মসেহ করা

সুতরাং চারটি কুরআনের নির্দেশিত ধাপের বাইরে তারা মোট ৯টি ধাপ পালন করে থাকে। 

তাদের যুক্তি হলো, যেহেতু পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ, যেমনটি হাদীসে এসেছে, তাই যত বেশি পরিস্কার হওয়া যায় ততই উত্তম!

কুরআনের বাইরের এই অতিরিক্ত অযুর ধাপগুলো অনুসরন করার কারনে কিছু বাড়তি প্রশ্নের জন্ম নেয়:

১. এটা কি সম্ভব যে নবী মুহাম্মদ সা., যাকে তাঁর প্রতি অবতীর্ণ কুরআন ব্যতীত অন্য কোন কিছু অনুসরণ না করার জন্য স্রষ্টা কঠোর আদেশ করেছিলেন, তিনি স্রষ্টার আদেশকে উপেক্ষা করেছেন এবং কুরআনে বর্ণিত আদেশের চেয়ে পৃথক ওযু প্রচলিত করেছেন?

বলুন, আমি তো কোন নতুন রসূল নই। আমি জানি না, আমার ও তোমাদের সাথে কি ব্যবহার করা হবে। আমি কেবল তারই অনুসরণ করি, যা আমার প্রতি ওহী করা হয়। আমি স্পষ্ট সতর্ক কারী বৈ নই।

সুরা আহকাফ ৪৬:৯

আর যখন তাদের কাছে আমার প্রকৃষ্ট আয়াত সমূহ পাঠ করা হয়, তখন সে সমস্ত লোক বলে, যাদের আশা নেই আমার সাক্ষাতের, নিয়ে এসো কোন কোরআন এটি ছাড়া, অথবা একে পরিবর্তিত করে দাও। তাহলে বলে দাও, একে নিজের পক্ষ থেকে পরিবর্তিত করা আমার কাজ নয়। আমি সে নির্দেশেরই আনুগত্য করি, যা আমার কাছে আসে। আমি যদি স্বীয় পরওয়ারদেগারের নাফরমানী করি, তবে কঠিন দিবসের আযাবের ভয় করি।

সুরা ইউনুস ১০:১৫

২. যারা নবীর কথিত ওযু পদ্ধতি পালন করে; তারা কি বোঝাচ্ছে যে কুরআনে আল্লাহর নির্দেশিত ওযূ অপর্যাপ্ত, এবং তারা আরো ভালো ফরম্যাট পছন্দ করে?

৩. উপরোক্ত প্রশ্নগুলি শেষ পর্যন্ত আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে এসে দাঁড়ায়: শারীরিক পরিস্কার পরিচ্ছন্নতাই কি সর্বোপরি ওযুর আসল উদ্দেশ্য এবং লক্ষ্য?

প্রথম এবং দ্বিতীয় প্রশ্নের একমাত্র উত্তর অবশ্যই নেতিবাচক হতে হবে। যদি তিনি ৪৬:৯ আয়াতানুসারে স্রষ্টার কাছ থেকে আসা আয়াতের বাইরে আর কিছু না অনুসরন করার অনুমতি পেয়ে থাকেন, সেক্ষেত্রে আল্লাহ তায়ালা কুরআনে যা দিয়েছেন তার তার বাইরে গিয়ে নবী সা. কখনই ওযুর জন্য আলাদা ফর্ম্যাট তৈরি বা অনুসরণ করতে পারেন না।

তার তৃতীয় প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে অবশ্যই একজনকে একটু  থেকে কয়েকটি বিষয়ে একটু ভাবতে হবে।

যদি ওযুর প্রাথমিক উদ্দেশ্য প্রকৃতপক্ষে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা হয়, তবে স্রষ্টা কেন আমাদের দেহের অন্যান্য অংশগুলিকে ধোওয়ার আদেশ দেননি যা আমাদের মুখের চেয়ে বেশি পরিস্কার পরিচ্ছন্ন হওয়ার প্রয়োজনীয়তা বহন করে, যেমন বগল, লজ্জাস্থান?

আরো ভালো হতো যদি ওযুর উদ্দেশ্য পরিস্কার পরিচ্ছন্ন হওয়াই হতো, তবে স্রষ্টাতো সালাতের পূর্বে আমাদের পূর্ণ শরীর ধৌত করার গোসল করতে বললেই পারতেন।

আবার ওযু যদি পরিচ্ছন্নতার জন্য নির্দেশ হয় তবে স্রষ্টা কেন বললেন, “মাথা মসেহ করতে?” কেন মাথা ধোওয়ার নির্দেশ দিলেন না? নিশ্চিত ভাবে ভিজা হাত বুলানোর চাইতে ধুয়ে ফেলাই পরিস্কার পরিচ্ছন্ন হওয়ার জন্য বেশি কার্যকর ছিলো।

এই প্রশ্নের একটি মাত্র উত্তর হতে পারে: অজু করার উদ্দেশ্যটি মূলত শারীরিক পরিচ্ছন্নতার জন্য না। 

ওযু মূলত আমাদের আনুগত্য পরীক্ষা করার জন্য স্রষ্টার একটি সহজ আদেশ। আমরা কি স্রষ্টা নির্দেশিত চারটি সহজ পদক্ষেপ মেনে চলছি, নাকি আমাদের ভাল করছে বলে ভেবে শয়তান আমাদেরকে স্রষ্টার আদেশ বদলে দেবে?

একটু খেয়াল করলে বোঝা যাবে যে অযু পালনের এই আপাত: সাধারণ পরীক্ষাটি আসলে নিষিদ্ধ গাছের সাথে আদমের দেওয়া পরীক্ষার মতোই একই ধরনের। 

আল্লাহ কেন জান্নাতে বাকি সব বৃক্ষের মধ্যে একটি নিষিদ্ধ ফলের বৃক্ষ রাখলেন এবং আদমকে সেটির ফল না খেতে সাবধান করলেন? ঐ ফল না ছিলো বিষাক্ত, না ছিলো অখাদ্য। কিন্তু ঐ ফল খেলে ফেলার মধ্যে দিয়ে আদম আসলে স্রষ্টার আনুগত্য বা বাধ্যতার পরীক্ষায় ফেল করে গেলেন। শয়তান আদমকে ঠিক যে কৌশলে ধোঁকা দিয়েছিলো, পৃথিবীর লক্ষ কোটি মুসলিমও ওযুর নির্দেশনায় ঠিক তেমনি ধোঁকায় পড়ে আছে।

শয়তানের ধোঁকা কিন্তু একই ধরনের যার বিরুদ্ধে আল্লাহ আমাদের বারবার সতর্ক করেছেন। জান্নাতের ফলের ক্ষেত্রে শয়তান আদম আ. কে বুঝিয়েছিলো যে ঐ ফলে অনেক উপকার আছে, ঐ ফল খেলে অমরত্ব লাভ হবে।

অতঃপর শয়তান তাকে কুমন্ত্রনা দিল, বললঃ হে আদম, আমি কি তোমাকে বলে দিব অনন্তকাল জীবিত থাকার বৃক্ষের কথা এবং অবিনশ্বর রাজত্বের কথা?

সুরা তাহা ২০:১২০

তেমনি ওযুর ক্ষেত্রেও শয়তান লক্ষ লক্ষ লোককে বিশ্বাস করতে প্ররোচিত করেছে যে স্রষ্টার নির্দেশিত ব্যবস্থার চেয়ে আরও ভাল ওযূ আছে!

এটিকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার জন্য শয়তান অনেককে বিশ্বাস করে ছলনা করেছেন যে নবী মুহাম্মদ ‘উন্নত ওযূ’র অনুসরণ করেছিলেন! বাস্তবে হযরত নবী (সা।) এমন মিথ্যা মিথ্যাচার থেকে নির্দোষ। কোন সন্দেহ নেই যে, নবী আল্লাহর প্রাপ্ত আদেশের সাথে সম্মতি রেখে অবশ্যই আজ্ঞাগুলি অক্ষরে অক্ষরে অনুসরণ করেছিলেন। তিনি তাঁর প্রতি নাযিল হওয়ার ওহির অনুসরণই করতেন এবং এর ব্যতিক্রম কিছু করতেন না।

যদিও পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার দোহাই দিয়ে স্রষ্টার নির্দেশিত ওযু থেকে মানুষকে যেমন সরিয়ে রাখা হয়েছে, আমরা কুরআনে যথেষ্ট দিক নির্দেশনা পাই যা থেকে এটা খুব পরিস্কার যে ওযু স্রষ্টার আনুগত্যেরই একটি নির্দশন বা পরীক্ষা; এটি পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার বিষয় নয়।


উপরের পয়েন্টটির পক্ষে কোরআন থেকে আরো কিছু যুক্তি এখানে তুলে ধরা হলো:

প্রথমত: শরীরের যে অংশগুলো কুরআনের ৫:৬ আয়াতে ওযুর জন্য উল্লেখিত সেগুলো পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার জন্য সবচেয়ে অগ্রগামী দাবীদার কখনোই নয়। বরং একজন মানুষের বগল বা লজ্হাস্থান আরো ঘন ঘন পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার প্রয়োজনীয়তা রাখে।

দ্বিতীয়ত: আল্লাহ খুব স্পষ্ট করেই মাথা মসেহ করতে বলেছেন, ধুতে নয়। এটি থেকেও এটা পরিস্কার যে অযুর উদ্দেশ্য পরিস্কার পরিচ্ছন্ন হওয়া নয়; বরং স্রষ্টার খুব সহজ নির্দেশনার প্রতি আমরা আনুগত্য প্রদর্শন করি কি না; সেটিই ওযুর নির্দেশনার পেছনের উদ্দেশ্য। লক্ষ কোটি মুসলিম যে এই সামান্য নির্দেশনাটিও মেনে চলে না; তা থেকেও অনেকটা পরিস্কার হয়ে যায় যে আমরা কতবড় শয়তাণী ধোকায় জীবন যাপন করছি।

তৃতীয়ত: তৃতীয় বারের মতো আমরা সুনিশ্চিত হতে পারি ওযুর উদ্দেশ্য যে পরিচ্ছন্নতা নয় সেটি নিয়ে নিচের আয়াতে:

হে ঈমাণদারগণ! তোমরা যখন নেশাগ্রস্ত থাক, তখন নামাযের ধারে-কাছেও যেওনা, যতক্ষণ না বুঝতে সক্ষম হও যা কিছু তোমরা বলছ, আর (নামাযের কাছে যেও না) ফরয গোসলের আবস্থায়ও যতক্ষণ না গোসল করে নাও। কিন্তু মুসাফির অবস্থার কথা স্বতন্ত্র আর যদি তোমরা অসুস্থ হয়ে থাক কিংবা সফরে থাক অথবা তোমাদের মধ্য থেকে কেউ যদি প্রস্রাব-পায়খানা থেকে এসে থাকে কিংবা নারী গমন করে থাকে, কিন্তু পরে যদি পানিপ্রাপ্তি সম্ভব না হয়, তবে পাক-পবিত্র মাটির দ্বারা তায়াম্মুম করে নাও-তাতে মুখমন্ডল ও হাতকে ঘষে নাও। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’আলা ক্ষমাশীল।

সুরা নিসা ৪:৪৩

একটি খুব গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষনের বিষয় এখানে লক্ষ্যনীয়। একজন যদি টয়লেট থেকে এসে থাকে অথবা তাঁর সঙ্গির সাথে সহবাস করে থাকে তবে শরীরের যে অংশগুলো তার ধোওয়ার কথা সেটি নিশ্চই হাত ও মুখ নয়। কিন্তু পানির অবর্তমানে আল্লাহর নির্দেশ হলো হাত ও মুখকে মাটির সংস্পর্শে ওযু (তায়াম্মুম) করা। এটির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায় যে ওযু শারীরিক পরিচ্ছন্নতার বিষয় নয়; বরং স্রষ্টার আনুগত্য পালন।

সুরা মায়েদার একই আয়াতে (৫:৬) আল্লাহ ওযুর সহজ নিয়ম, বিকল্প ব্যবস্থা বলার পরে ওযুর উদ্দেশ্য সম্পর্কেও আলোকপাত করেন:

আল্লাহ তোমাদেরকে উপরে কষ্ট দিতে চান না; কিন্তু তোমাদেরকে পবিত্র করতে চান এবং তোমাদের প্রতি স্বীয় নেয়ামত পূর্ণ করতে চান-যাতে তোমরা কৃতজ্ঞাতা প্রকাশ কর।

সুরা মায়েদা ৫:৬

উপরের আয়াতে ওযুর উদ্দেশ্য যে আল্লাহর অনুগ্রহে পবিত্রতা (তাহহিরা) লাভ, সেটা কুরআনেই স্পষ্ট।


৪২:২১ আয়াতে আল্লাহ বলছেন: তাদের কি এমন শরীকদার আছে, যারা তাদের জন্যে সে ধর্ম পদ্ধতি চালু করেছে যার অনুমতি আল্লাহ দেননি? যদি চুড়ান্ত সিন্ধান্ত না থাকত, তবে তাদের ব্যাপারে ফয়সালা হয়ে যেত। নিশ্চয় যালেমদের জন্যে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।

অন্যত্র আল্লাহর নামে মিথ্যা প্রচলনকে সবচেয়ে বড় জুলুম বলা হয়েছে। যে ওযুর নির্দেশনা আল্লাহ দেননি, তাঁর ইবাদতে সেই পদ্ধতি চালু করা স্রষ্টার প্রতিদ্বন্দ্বিতা / শিরকের মতো অপরাধ।

মিথ্যাবাদীরা কেবল স্রষ্টার নির্দেশের বাইরে নতুন ধর্ম পদ্ধতি চালু করেই খ্যান্ত নয়, বরং হাস্যকর সব নিয়মকানুন ওযুতে যুক্ত করে যার একটি হলো একটি পশমও যদি না ভিজে তবে ওযু হবে না; অথবা পানি যদি কব্জি থেকে কনুইয়ের দিকে না যায় তবে ওযু বাতিল। অথচ এরকম কোন কঠিন শর্ত আল্লাহ আরোপ করেন নি।

দেখ! ওরা নিজেদের মিথ্যা কথাগুলোই কীভাবে আল্লাহর কথা বলে চালিয়ে দিচ্ছে। প্রকাশ্য পাপ হিসেবে এটাই যথেষ্ট।

সুরা নিসা ৪:৫০

যেখানে আল্লাহ ঘোষণা দিচ্ছে যে আমি এই মনোনিত ধর্মকে সহজ সাধ্য করেছি (৩৯:২৮) সেখানে অজ্ঞানতায় ডুবে থাকা তথাকথিত মুসলিমরা কেবল কুরআন / অর্থাৎ স্রস্টার সহজ সরল আদেশ নিয়ে সন্তুষ্ট নয়। তারা কুরআনের নির্দেশকে পেছনে ফেলে মানুষের (পড়ুন ধর্মব্যবসায়ীদের) তৈরী বেহুদা মাসলা মাসায়েল, নিয়ম কানুন দিয়ে ধর্মপালনকে যেমন করে ফেলেছে কঠিন; তেমনি স্রষ্টার বরকত বঞ্চিত। যদি তাদেরকে স্রষ্টার সহজ নির্দেশনা চোখে আঙ্গুল দিয়েও দেখিয়ে দেওয়া হয় সেটিকেও তারা প্রত্যাখ্যান করে এবং হাজারটা যুক্তি দেখিয়ে পাশ কাটিয়ে যেতে চায়। ওযুর বিষয়টি সেরকমই একটি ক্ল্যাসিক উদাহরন।

আল্লাহ ইতিমধ্যেই কুরআনে বলছেনে যে যত সহজ নির্দেশই তাদেরকে পালন করতে দেওয়া হোক না কেন, যারা সত্য প্রত্যাখ্যানকারীরা কুটতর্কে জড়াবেই।

নিশ্চয় আমি এ কোরআনে মানুষকে নানাভাবে বিভিন্ন উপমার দ্বারা আমার বাণী বুঝিয়েছি। (তা সত্ত্বেও) মানুষ সব থেকে অধিক তর্কপ্রিয়।

সুরা কাহাফ ১৮:৫৪

সর্বশক্তিমান দয়ালদাতার কাছে প্রার্থনা তিঁনি যেন আমাদের সত্যকে গ্রহনের শক্তি বৃ্দ্ধি করেন।


ক্রেডিট: জিয়া মাহমুদ

Print Friendly, PDF & Email

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।