পরকালীন মুক্তির জন্য তোমরা যতটুকু সৎকর্ম করবে, তার সবটাই আল্লাহর কাছে জমা থাকবে। – ২:১১০

তোমাদের মধ্যে যারাই আল্লাহতে পুরোপুরি সমর্থিত হবে এবং সৎকর্ম করবে, প্রতিপালক অবশ্যই তাদের যথাযথ পুরস্কার দেবেন। তাদের কোন ভয় বা দু:খ থাকবে না। – ২:১১২

দানশীল পুরুষ ও নারী, যারা আল্লাহকে উত্তম ঋণ দান করে (শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির লক্ষ্যে অন্যের জন্যে ব্যয় করে), তাদেরকে প্রতিদান দেয়া হবে বহুগুণ এবং তাদের জন্যে রয়েছে মহাপুরস্কার। যারা আল্লাহ ও তাঁর রসুলে বিশ্বাস করে (এবং সত্য বিশ্বাসে অটল থাকে) তারাই তাদের প্রতিপালকের কাছে সিদ্দিক ও শহিদ। তারা তাদের প্রতিপালকের কাছ থেকে পাবে পুরস্কার ও জ্যোতি। আর যারা সত্য অস্বীকার করেছে, আমার সত্যবাণীকে প্রত্যাখ্যান করেছে, তাদের নিবাস হবে জাহান্নাম। ৫৭:১৮-১৯


সত্য অস্বীকারকারীরা রসুলদের বলল, তোমাদেরকে আমাদের বাপদাদার ধর্মে ফিরে আসতে হবে, নইলে আমরা তোমাদেরকে দেশ থেকে বের করে দেবো। এরপর তাদের প্রতিপালক রসুলদের কাছে ওহী পাঠালেন, এ জালেমদের আমি অবশ্যই বিনাশ করব। ওরা চলে যাওয়ার পর (দীর্ঘ সময়) তোমরা পৃথিবীকে আবাদ করবে। যারা আমার কাছে জবাবদিহির ব্যাপারে শঙ্কিত, যারা আমার সতর্কবাণী সম্পর্কে সচেতন থাকে, তাদের প্রত্যেকের জন্যেই এটি আমার প্রতিশ্রুতি। সুরা ইব্রাহিম ১৪:১৩-১৪

২২. সবকিছুর ফয়সালা হওয়ার পর শয়তান বলবে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা তো সত্য হবেই। আমিও তোমাদের নানাধরনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম কিন্তু তা ছিল নিছক প্রতারণা। তোমাদের ওপর তো আমার কোনো কর্তৃত্ব ছিল না। আমি তো শুধু কুবুদ্ধি দিয়েছিলাম আর তোমরা তাতে সাড়া দিয়েছিলে। সুতরাং এখন আমাকে দোষ দিও না, নিজেকেই নিজে তিরস্কৃত করো (কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, সংস্কার ও ফ্যান্টাসিতে আসক্ত হয়ে পাপাচারে লিপ্ত থাকার জন্যে)। – ১৪:২২

অতএব কখনো মনে কোরো না যে, আল্লাহ তাঁর রসুলদের দেয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করবেন। আল্লাহ সর্বশক্তিমান, কঠোর দণ্ডবিধায়ক। – ১৪:৪৭

(হে মানুষ! সেদিনের কথা ভাবো) যেদিন মহাকাশকে লিখিত কাগজের পাতার ন্যায় ভাঁজ করে গুটানো হবে। আর যেভাবে আমি প্রথম সৃষ্টির সূচনা করেছিলাম, সেভাবে পুনরায় সৃষ্টি করব। ওয়াদা পালন করা আমার দায়িত্ব আর আমি ওয়াদা পালন করবই। – ২১: ১০৪

সত্য ও ন্যায়ের স্বার্থেই তোমার প্রতিপালকের প্রতিশ্রুতি পূরণ হবে। তাঁর প্রতিশ্রুতি পাল্টানোর ক্ষমতা কারো নেই। নিশ্চয়ই তিনি সব শোনেন, সব জানেন। – ৬:১১৫

আল্লাহ (বিজয়ের) প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আল্লাহ কখনো প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন না। কিন্তু অধিকাংশ মানুষই তা বোঝে না। ওরা পার্থিব জীবনের দৃশ্যমান বিষয়েই শুধু জানে। কিন্তু চূড়ান্ত নিগূঢ় সত্য সম্পর্কে ওদের কোনো জ্ঞানই নেই। – ৩০:-৬-৭

তবে যারা আল্লাহ-সচেতন, তাদের জন্যে সাজানো রয়েছে থরে থরে প্রাসাদ, যার পাদদেশে থাকবে প্রবহমান ঝর্নাধারা। এ আল্লাহর প্রতিশ্রুতি। আর আল্লাহ প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন না। – ৩৯:২০

(পুনরুত্থান সম্পর্কে) তোমাদের যে প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে, তা অবশ্যম্ভাবী। তোমরা কেউ একে ফাঁকি দিতে পারবে না। – ৬:১৩৪

(হে নবী! জেনে রাখো, ক্রমাগত সত্য অস্বীকারকারীদের) তুমি যতই সত্যপথ প্রদর্শনে আগ্রহী হও না কেন, আল্লাহ যাদের পথভ্রষ্ট বলে সাব্যস্ত করেছেন, তাদের কখনোই তিনি সৎপথে পরিচালিত করবেন না। (মহাবিচার দিবসে) ওদের সাহায্য করারও কেউ থাকবে না। ওরা দৃঢ়তার সাথে আল্লাহর শপথ করে বলে যে, ‘আল্লাহ কোনো মৃতকে পুনর্জীবিত করবেন না।’ কেন করবেন না? (মৃতকে পুনর্জীবিত করার প্রতিশ্রুতিই তো তিনি দিয়েছেন। আর) তাঁর এই প্রতিশ্রুতি তিনি পূরণ করবেনই। কিন্তু অধিকাংশ মানুষই তা বোঝে না। যখন তিনি ওদের পুনর্জীবিত করবেন, তখন (ধর্মের) যে যে বিষয়ে তারা দ্বিমত করছিল, সে বিষয়গুলো তাদের সামনে স্পষ্ট হবে এবং সত্য অস্বীকারকারীরা তখন জানতে পারবে যে, তারা বাস্তবিকই মিথ্যায় নিমজ্জিত ছিল। – সুরা নহল ১৬:৩৬-৩৯

আল্লাহর ওয়াদা সত্য! তোমাদের সবাইকে তাঁর কাছে ফিরে যেতে হবে। মনে রেখো, তিনিই (মানুষকে) প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন। তিনি আবার তাকে সৃজন করবেন, যাতে করে বিশ্বাসী ও সৎকর্মশীলদের যথাযোগ্য পুরস্কার দিতে পারেন। আর যারা সত্য অস্বীকারে অনড় থাকবে, তাদের জন্যে অপেক্ষা করবে ফুটন্ত আঠালো পানীয় আর যন্ত্রণাদায়ক আজাব। -১০:৪

আমি এদের (বিশ্বাসে অটল, পিতামাতার সাথে সৎকর্মশীল, সৎকর্মশীল, কৃতজ্ঞ, স্রষ্টার সন্তুষ্ট করার মতো সৎকর্ম, তওবা ও সমর্পনকারী) সৎকর্মগুলো কবুল করি এবং মন্দ কাজগুলোকে ক্ষমা করে দেই। আমার প্রতিশ্রুতি অনুসারেই এরা হবে জান্নাতের অধিকারী। – ৪৬:১৬

হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা আল্লাহর পথে সাহায্য করলে আল্লাহ তোমাদের সাহায্য করবেন এবং তোমাদের অবস্থানকে সুদৃঢ় করবেন। ৪৭:৭

৮-৯. আর যারা বিশ্বাসী ও সৎকর্মশীল তাদের জন্যে রয়েছে নেয়ামতে পরিপূর্ণ জান্নাত। আল্লাহর প্রতিশ্রুতি অনুসারে সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। – সুরা লুকমান ৩১:৮-৯

যারা বিশ্বাস স্থাপন ও সৎকর্ম করবে, আল্লাহ তাদেরকেও ক্ষমা ও মহাপুরস্কারের ওয়াদা করেছেন। -৪৮:২৯

(হে নবী! সত্য অস্বীকারকারীদের) জিজ্ঞেস করো, ‘পরিণতি হিসেবে এটা উত্তম, না স্থায়ী জান্নাত উত্তম, যার প্রতিশ্রুতি আল্লাহ-সচেতনদের দেয়া হয়েছে? জান্নাতই তাদের পুরস্কার, মহাযাত্রার গন্তব্যস্থল। সেখানে থাকবে তারা চিরকাল, যা চাইবে তা-ই পাবে। এ প্রতিশ্রুতি পূরণ করার দায়িত্ব তোমার প্রতিপালকের।’ – সুরা ফোরকান ২৫: ১৫-১৬

আর যারা বিশ্বাস করবে ও সৎকর্ম করবে, তারা দাখিল হবে জান্নাতে, যার পাদদেশে থাকবে প্রবহমান ঝর্নাধারা। সেখানে তারা থাকবে চিরকাল। এটা আল্লাহর ওয়াদা। আর আল্লাহর চেয়ে বেশি সত্যবাদী কে হতে পারে? – ৪:১২২

নিশ্চয়ই আল্লাহ বিশ্বাসীদের জান ও মাল জান্নাতের বিনিময়ে কিনে নিয়েছেন। তাই তারা নির্দ্বিধায় আল্লাহর পথে সর্বাত্মক সংগ্রাম করে, কখনো শত্রু নিধন করে, কখনো শহিদ হয়। তাওরাত, ইঞ্জিল ও কোরআনে এই বিশ্বাসীদের জন্যে তিনি সুস্পষ্টভাবে জান্নাতের ওয়াদা করেছেন। আল্লাহর চেয়ে শ্রেষ্ঠ ওয়াদাপালনকারী আর কে হতে পারে? অতএব (হে বিশ্বাসীরা!) আল্লাহর সাথে যে লেনদেন করেছ (বায়াত হয়েছ) সেজন্যে আনন্দে উদ্বেলিত হও। নিঃসন্দেহে এটাই সবচেয়ে বড় সাফল্য। – ৯:১১১

শয়তান তোমাদের দারিদ্র্যের ভয় দেখায় আর বখিল বা কৃপণ হতে উৎসাহ জোগায়। অপরদিকে আল্লাহ তোমাদেরকে ক্ষমা ও অনুগ্রহের প্রতিশ্রুতি দেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ। – ২:২৬৮

(এদের মধ্যে) যারা তওবা করেছে, বিশ্বাস স্থাপন করেছে ও সৎকর্ম করেছে, তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে। তাদের মর্যাদা কখনো ক্ষুণ্ন করা হবে না। এই স্থায়ী জান্নাতের প্রতিশ্রুতিই দয়াময় তাঁর বান্দাদের দিয়েছেন, যা মানবীয় বুদ্ধির অগম্য এক বাস্তবতা। আর দয়াময়ের প্রতিশ্রুতি পূরণ হবেই। ১৯:৬০-৬১

সেদিন জান্নাত দৃশ্যমান করা হবে আল্লাহ-সচেতনদের কাছে। (বলা হবে) তোমাদের প্রত্যেকে—যারা আল্লাহ-অনুরাগী ছিলে, সবসময় সত্য-সচেতন ছিলে, যারা না দেখেও দয়াময় আল্লাহর সামনে শঙ্কিত ও বিনম্রভাবে উপস্থিত হতে, তাদের এ জান্নাতেরই প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল। – ৫০:৩১-৩৩

স্মরণ করো! ইব্রাহিমকে তাঁর প্রতিপালক কিছু বিষয়ে পরীক্ষা নিয়েছিলেন। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর আল্লাহ বললেন, ‘আমি তোমাকে মানবজাতির নেতা মনোনীত করেছি।’ সে বলল, ‘আমার বংশধরদের মধ্য থেকেও কি নেতা হবে?’ আল্লাহ বললেন, ‘আমার প্রতিশ্রুতি জালেমদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।’ – ২:১২৪

(হে নবী!) ওরা তোমাকে আল্লাহর শাস্তি ত্বরান্বিত করার জন্যে চ্যালেঞ্জ দেয়। আল্লাহ কখনোই তাঁর প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন না। মনে রেখো, তোমার প্রতিপালকের কাছে একদিন—তোমাদের গণনার হাজার বছরের সমান। সীমালঙ্ঘন করার পর (অনুশোচনা করার জন্যে) বহু জনপদকে আমি সুযোগ দিয়েছিলাম। তারপর তাদেরকে শাস্তি দিয়েছি। (মনে রেখো) তোমাদের সবাইকে শেষ পর্যন্ত আমার কাছেই ফিরে আসতে হবে। – ২২:৪৭-৪৮

যখন শিঙ্গায় ফুৎকার দেয়া হবে, তখন মানুষ দলে দলে কবর থেকে উঠে প্রতিপালকের দিকে ছুটতে থাকবে। ভীতশঙ্কিতভাবে ওরা বলবে, ‘হায়রে! দুর্ভোগ আমাদের! কে আমাদের মরণঘুম থেকে উঠাল (পুনরুত্থিত করল)?’ তখন ওদের বলা হবে, দয়াময় আল্লাহ তো এই দিনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন আর রসুলরা সত্য কথাই বলেছিল। – ৩৬:৫১-৫২

(বিশ্বাসী ও সৎকর্মশীলদের জন্যে) আমি আগে থেকেই কল্যাণ নির্ধারিত করে রেখেছি। তাদের জাহান্নাম থেকে দূরে রাখা হবে। তারা এ আর্তনাদের ক্ষীণতম শব্দও শুনবে না। তারা সেখানে তাদের মনপসন্দ সবকিছু চিরকাল উপভোগ করবে। মহাবিচারের সমাবেশ ময়দানের বিভীষিকায় বিশ্বাসীরা কখনো বিচলিত হবে না। ফেরেশতারা তাদের স্বাগত জানিয়ে বলবে, ‘আজ তোমাদের সেই শুভদিন, যার প্রতিশ্রুতি তোমাদের দেয়া হয়েছিল।’ – ২১:১০১-১০৩

আল্লাহ তোমাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন—তোমরা যুদ্ধে বিজয় ও বিপুল সম্পদের অধিকারী হবে। তিনি তোমাদের বিজয় ত্বরান্বিত করবেন। তিনি শত্রুর হাত থেকে তোমাদের রক্ষা করেছেন, যাতে অনাগত বিশ্বাসীদের জন্যে এটি হয় এক উজ্জ্বল নিদর্শন। আল্লাহ সবসময়ই তোমাদের সাফল্যের সরলপথে পরিচালিত করেন। – ৪৮:২০

(হে মানুষ! সেদিনের কথা ভাবো) যেদিন মহাকাশকে লিখিত কাগজের পাতার ন্যায় ভাঁজ করে গুটানো হবে। আর যেভাবে আমি প্রথম সৃষ্টির সূচনা করেছিলাম, সেভাবে পুনরায় সৃষ্টি করব। ওয়াদা পালন করা আমার দায়িত্ব আর আমি ওয়াদা পালন করবই। আমি আসমানি কিতাবসমূহে লিপিবদ্ধ করে রেখেছি যে, আমার সৎকর্মশীল যোগ্য বান্দারাই শেষ পর্যন্ত পৃথিবীর উত্তরাধিকারী হবে। এতে আল্লাহর ইবাদতকারী জনগোষ্ঠীর জন্যে সুস্পষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে। – সুরা আম্বিয়া ২১:১০৫-১০৬


কুরআনে আল্লাহ মানুষের জন্য প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, কখনো দিয়েছেন রাসুলদের জন্য এবং কখনো দিয়েছেন বিশ্বাসীদের জন্য।


এটি একটি চলমান প্রবন্ধ। অর্থাৎ সময়ে সময়ে এটি আপডেট হতে থাকবে এবং কুরআনের আয়াত সংযোজিত হতে থাকবে ইনশাল্লাহ।

Print Friendly, PDF & Email

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।