ভালাই বা সৎকর্ম শুধু এই নয় যে, পূর্ব কিংবা পশ্চিমদিকে মুখ করবে, বরং বড় সৎকাজ হল এই যে, ঈমান আনবে আল্লাহর উপর কিয়ামত দিবসের উপর, ফেরেশতাদের উপর এবং সমস্ত নবী-রসূলগণের উপর, আর সম্পদ ব্যয় করবে তাঁরই মহব্বতে আত্নীয়-স্বজন, এতীম-মিসকীন, মুসাফির-ভিক্ষুক ও মুক্তিকামী ক্রীতদাসদের জন্যে। আর যারা নামায প্রতিষ্ঠা করে, যাকাত দান করে এবং যারা কৃত প্রতিজ্ঞা সম্পাদনকারী এবং অভাবে, রোগে-শোকে ও যুদ্ধের সময় ধৈর্য্য ধারণকারী তারাই হল সত্যাশ্রয়ী, আর তারাই পরহেযগার। – সুরা বাকারা ২:১৭৭

… সৎকর্মে অন্যদের অনুপ্রাণিত করে, অন্যায় করতে নিষেধ করে এবং তারা সাধ্যমতো সৎকর্ম করে। এরাই সৎকর্মশীল। – সুরা ইমরান, ৩:১১৩

সৎকর্মশীলের দোয়া: ‘হে আমার প্রতিপালক! তোমাকে খুশি করার মতো সৎকর্ম করার শক্তি আমাকে দাও। (প্রভু হে!) অনুগ্রহ করে তোমার সৎকর্মশীল বান্দাদের মধ্যে আমাকে অন্তর্ভুক্ত করো।’ – ২৭:১৭

সৎকর্মে অগ্রগামী কারা?

আসলে যারা তাদের প্রতিপালকের ভয় করে, যারা তাঁর বাণীকে বিশ্বাস করে, যারা তাঁর সাথে কাউকে শরিক করে না, যারা তাঁর কাছেই প্রত্যাবর্তন করতে হবে—এই বিশ্বাস নিয়ে কম্পিত হৃদয়ে অন্তর থেকে দান করে, তারাই সৎকর্মে আসল প্রতিযোগী, তারাই সৎকর্মে অগ্রগামী। – সুরা মুমিনুন ২৩: ৫৭-৬১

এখন আমি মানুষকে তার মা-বাবার সাথে ভালো ব্যবহারের নির্দেশ দিচ্ছি (এটি উত্তম সৎকর্মের একটি)। – ৪৬:১৫

প্রত্যেকেরই একটি লক্ষ্য আছে; যা তার কর্মধারাকে পরিচালনা করে। অতএব তোমরা সৎকর্মে (নিজের সাথে) প্রতিযোগিতা করো। তোমরা যেখানেই থাকো না কেন, আল্লাহ তোমাদের সকলকে সমবেত করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান। – ২:১৪৮

সেদিন আল্লাহ-সচেতনরা থাকবে প্রবহমান ঝর্নাবেষ্টিত জান্নাতে। তারা তাদের প্রতিপালকের পুরস্কারে আনন্দে উচ্ছল হয়ে উঠবে। কারণ পার্থিব জীবনে তারা ছিল সৎকর্মশীল। তারা রাতে সামান্য অংশই ঘুমিয়ে কাটাত, রাতের শেষ প্রহরে তারা ক্ষমাপ্রার্থনা করত, তাদের ধনসম্পত্তি থেকে অভাবী ও বঞ্চিতের হক আদায়ে অকাতরে ব্যয় করত। – ৫১:১৫-১৯


সালেহাত শব্দটি সাদ, লাম, হা এই তিনটি মূল থেকে যার অর্থ বিশুদ্ধ। এর বিপরীত হলো ফা সিন দাল বা ফাসাদ শব্দটি যেটির অর্থ হয় অশুদ্ধ বা দূষিত।

সলেহ শব্দের যে সব অর্থ হয়, সেগুলো হলো:

উদ্দেশ্যে যা বিশুদ্ধ
মানুষকে একত্রে আনা এবং সংঘাত নিরোষন করা
ভূল শুদ্ধ করা
উন্নতি করা
নিজের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালানো
পরিশুদ্ধ করা এবং দূষণমুক্ত থাকা
আর্শীবাদ


সৎকর্ম করার সামর্থ্য / শক্তি / তওফিক চেয়ে দোওয়া

‘হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমার ও আমার মা-বাবার প্রতি যে অনুগ্রহ করেছ, সেজন্যে শোকরগোজার হওয়ার তওফিক আমাকে দাও। তোমাকে খুশি করার মতো সৎকর্ম করার শক্তি আমাকে দাও। (প্রভু হে!) অনুগ্রহ করে তোমার সৎকর্মশীল বান্দাদের মধ্যে আমাকে অন্তর্ভুক্ত করো।’ – ২৭:১৭


বিশ্বাসী পুরুষ হোক বা নারী, যে-ই সৎকর্ম করবে তাকে দুনিয়ায় সার্থক জীবন দান করব এবং পরকালে সে তার কাজের শ্রেষ্ঠ পুরস্কার পাবে। ১৬:৯৭

নিশ্চয়ই যারা (এক) সচ্ছল ও অসচ্ছল অবস্থায় দান করে, (দুই) রাগ নিয়ন্ত্রণ করে, (তিন) মানুষকে ক্ষমা করে, আল্লাহ তাদের ভালবাসেন। আর যারা কোনো অশ্লীল কাজ করে ফেলে বা কোনো গুনাহ করে বা নিজেদের প্রতি অত্যাচার করার পর আল্লাহকে স্মরণ করে এবং নিজেদের পাপের জন্যে ক্ষমাপ্রার্থনা করে, তাদের আল্লাহ ছাড়া কে ক্ষমা করতে পারে? আর তারা কখনো জেনেশুনে অন্যায় কাজ নিয়ে বাড়াবাড়ি বা হঠকারিতা করে না। তাদের জন্যে রয়েছে প্রতিপালকের ক্ষমা ও সেই জান্নাত, যার পাদদেশে থাকবে প্রবহমান ঝর্নাধারা। সেখানে তারা থাকবে চিরকাল। যারা নিরলসভাবে সৎ কাজ করে, তাদের পুরস্কার কতই না উত্তম! ৩:১৩৪

http://www.biharanjuman.org/Quran/good-deeds-Quran.htm

https://alquran.org.bd/search/results/%E0%A6%B8%E0%A7%8E%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AE

এটি এক চলমান প্রশ্নোত্তর। এই প্রশ্নের উত্তর ধীরে ধীরে সমৃদ্ধ করা হবে।

Print Friendly, PDF & Email

One Reply to “সৎকর্ম বা আমল সলেহ কি? কুরআন থেকে উত্তর”

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।