পার্থিব জীবনের দৃষ্টান্ত

১০:২৪. পার্থিব জীবনের দৃষ্টান্ত হচ্ছে বৃষ্টির মতো, যা আমি মেঘমালা থেকে বর্ষণ করি। পানিতে জমিনের গাছপালা তৃণলতা সজীব হয়ে ওঠে, যা থেকে জীবজন্তু ও মানুষ আহার পায়। জমিন গাছপালায় সুশোভিত হয়ে ওঠে আর নয়ন জুড়ায় সবার। জমিনে বসবাসকারীরা মনে করে, এ সবকিছুই তাদের আওতাধীন। তারপর দিনে বা রাতে যখন আমার নির্দেশে সব নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়, তখন মনে হয়, এখানে কখনো সজীবতা ছিল না। ধ্যানী বা চিন্তাশীলদের জন্যে আমার বাণী সুস্পষ্টভাবেই বয়ান করি (যাতে তারা গভীরভাবে ভাবতে পারে)!

১৬:৫৩-৫৫. তোমাদের কাছে সমস্ত নেয়ামত আসে আল্লাহর তরফ থেকে। আবার দুঃখদৈন্য ও বিপদে তোমরা তাঁর কাছেই ব্যাকুলচিত্তে প্রার্থনা করো। কিন্তু যখন আল্লাহ দুঃখদৈন্য বিপদ দূর করে দেন, তখন হায়! তোমাদের অনেকেই প্রতিপালকের একচ্ছত্র ক্ষমতার সাথে অন্য শক্তিকে শরিক করে ফেলো। আসলে এর মাধ্যমে কার্যত তোমরা আমার নেয়ামতের ব্যাপারেই অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো। ঠিক আছে, (স্বল্পকালের জন্যে পার্থিব) জীবন ভোগ করো। সময় এলেই টের পাবে (তোমাদের নির্বুদ্ধিতার পরিণাম)!


পরকালীন জীবনের তুলনায় পার্থিব জীবন

১৩:২৬. আল্লাহ যাকে ইচ্ছা জীবনোপকরণের প্রাচুর্য দেন এবং যাকে ইচ্ছা সীমিত জীবনোপকরণ দেন। (যাদের জীবনোপকরণের প্রাচুর্য দেয়া হয়) তারা পার্থিব ভোগবিলাসেই মত্ত হয়ে ওঠে, যদিও পরকালীন জীবনের তুলনায় পার্থিব জীবন এক পুতুলখেলা মাত্র।

২৯:৬৪. (যদি ওরা সহজাত বিচারবুদ্ধি প্রয়োগ করত, তাহলে বুঝত যে) এই পার্থিব জীবন পুতুলখেলার মতোই ক্ষণিকের। আসল জীবন তো পরকালের। হায়! যদি ওরা ওদের সহজাত বিচারবুদ্ধি প্রয়োগ করত!

৬:৩২. আসলে (পরকালের তুলনায়) পার্থিব জীবন তো এক তামাশা ও পুতুল খেলা ছাড়া আর কিছু নয়! আল্লাহ-সচেতনদের জন্যে পরকালের আবাসই শ্রেয়! এরপরও কি তোমরা তোমাদের সহজাত বিচারবুদ্ধি প্রয়োগ করবে না?

৪০:৩৮-৩৯. বিশ্বাসী লোকটি বলল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আমার কথা শোনো। আমি তোমাদের সঠিক পথে পরিচালনা করব। হে আমার সম্প্রদায়! পার্থিব জীবন তো ক্ষণস্থায়ী উপভোগমাত্র। পরকাল হচ্ছে চিরকালের।


যারা পার্থিব জীবনে সৎকর্ম করে, চূড়ান্ত কল্যাণ অপেক্ষা করছে তাদের জন্যে

৩৯:১০. বলো, (আল্লাহ বলেছেন) ‘হে আমার বিশ্বাসী বান্দারা! তোমরা আল্লাহ-সচেতন হও! যারা পার্থিব জীবনে সৎকর্ম করে, চূড়ান্ত কল্যাণ অপেক্ষা করছে তাদের জন্যে।’ আর মনে রেখো, ‘আল্লাহর দুনিয়া অনেক বড়।’ নিশ্চয়ই যারা প্রতিকূলতার মুখে ধৈর্যধারণ করে, তাদের অশেষ পুরস্কার দেয়া হবে।


পরকালের বদলে পার্থিব জীবনকে প্রাধান্য দেওয়া

৭৯:৩৭-৩৯. আসলে যে সীমালঙ্ঘন করেছে এবং পার্থিব জীবনের লোভ-লালসাকে অগ্রাধিকার দিয়েছে, জাহান্নামই হবে তার নিবাস।

২:৮৬. যারাই পরকালের বিনিময়ে পার্থিব জীবনকে বেছে নেবে, তাদের যন্ত্রণা ও শাস্তি কখনো লাঘব হবে না। আর তারা কোনো সাহায্যও পাবে না।

১৬:১০৬-১০৭. বিশ্বাস স্থাপন করার পর কেউ স্বেচ্ছাপ্রণোদিতভাবে প্রকাশ্যে আল্লাহকে অস্বীকার করলে তার ওপর আল্লাহর গজব আপতিত হবে। (পরকালে) তার জন্যে অপেক্ষা করবে কঠিন শাস্তি। কারণ ওরা পার্থিব জীবনকে আখেরাতের ওপর প্রাধান্য দিয়েছে। আর আল্লাহ সত্য অস্বীকারকারীদের সত্যপথ দেখান না। তবে অন্তরে গভীর বিশ্বাস থাকা সত্ত্বেও পারিপার্শ্বিক অসহনীয় চাপের কারণে মুখে অস্বীকৃতি প্রকাশে যারা বাধ্য হয়, তাদের কথা আলাদা।


মানুষের মধ্যে অধিকাংশই পার্থিব জীবনকে প্রাধান্য দেয়

৭৫:২০-২১. বাস্তব সত্য হচ্ছে, তোমরা অধিকাংশই যা সামনে দেখতে পাও অর্থাৎ পার্থিব জীবনকেই ভালবাসো, (মহাবিচার দিবস এবং) পরকালের জীবন নিয়ে কোনো চিন্তা করো না।

৩০:৬-৭. আল্লাহ (বিজয়ের) প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আল্লাহ কখনো প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন না। কিন্তু অধিকাংশ মানুষই তা বোঝে না। ওরা পার্থিব জীবনের দৃশ্যমান বিষয়েই শুধু জানে। কিন্তু চূড়ান্ত নিগূঢ় সত্য সম্পর্কে ওদের কোনো জ্ঞানই নেই।


পৃথিবীর সময় মরীচিকার মতো

৩০:৫৫. কেয়ামত দিবসে দুরাচারীরা শপথ করে বলবে, দুনিয়ায় তারা একঘণ্টার বেশি সময় অবস্থান করে নি। (অতএব তাদের পাপ করার সুযোগ কোথায়?) পার্থিব জীবনেও ওরা এভাবেই আত্মপ্রতারিত হয়েছে। ৫৬. কিন্তু জ্ঞানী ও বিশ্বাসীরা সেদিন ওদের বলবে, অবশ্যই তোমরা আল্লাহর বিধান অনুযায়ী পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত অবস্থান করেছ। আজ সেই পুনরুত্থান দিবস, যা বিশ্বাস করতে তোমরা ক্রমাগত অস্বীকৃতি জানিয়েছ। ৫৭. সেদিন সীমালঙ্ঘনকারীদের কোনো অজুহাতই কাজে আসবে না, কোনো ধরনের ক্ষমাপ্রার্থনারও সুযোগ পাবে না।

২৩:১১৪. আল্লাহ বলবেন, আসলে তোমরা খুব অল্প সময়ই পৃথিবীতে ছিলে। (আফসোস! তোমাদের পার্থিব আয়ুষ্কাল যে এত অল্প) একথা যদি সেদিন বুঝতে! ১১৫. তোমরা (কত নির্বোধের মতো) মনে করেছিলে যে, আমি তোমাদেরকে অনর্থক সৃষ্টি করেছি আর তোমাদেরকে আমার কাছে ফিরিয়ে আনা হবে না।

২০:১০২-১০৪. যেদিন শিঙ্গায় ফুঁ দেয়া হবে, সেদিন সমবেত পাপীদের চোখ হবে আতঙ্কে নীল। তখন ওরা পরস্পর কানাঘুষা করবে, ‘দুনিয়ায় তোমরা বড়জোর ১০ দিন কাটিয়েছ।’ (হে নবী!) আমি ভালো করেই জানি, ওরা কী বলবে। ওদের মধ্যে যে সবচেয়ে সতর্ক অনুমান করবে, সে বলবে, ‘তোমরা তো দুনিয়াতে কাটিয়েছ মাত্র একটি দিন।

৩১:২৩-২৪. এরপর কেউ সত্য অস্বীকার করলে তা যেন তোমাকে চিন্তিত না করে। ওদের তো আমার কাছেই ফিরে আসতে হবে। তারপর ওরা জীবনে যা করেছে, সবই ওদের অবহিত করা হবে। মানুষের অন্তরে যা রয়েছে, আল্লাহ তা ভালোভাবেই জানেন। আমি দুনিয়ায় ওদের ভোগবিলাসের সুযোগ দিয়েছি স্বল্পকালের জন্যে। এরপর কঠিন আজাব ভোগ করতে বাধ্য করব ওদের।

১৭:৫০-৫২. হে নবী! ওদের বলো, তোমরা পাথর হও বা লোহা বা এমন কিছু, যা তোমাদের ধারণায় সবচেয়ে নির্জীব কঠিন, তারপরও (তোমাদেরকে নতুন জীবন দিয়ে পুনরুত্থিত করা হবে)। এরপরও ওরা জিজ্ঞেস করবে, কে আমাদের পুনরুত্থিত করবে? (হে নবী!) বলো, ‘তিনিই, যিনি তোমাদের প্রথমবার সৃষ্টি করেছিলেন।’ এরপর ওরা তোমার সামনে মাথা নেড়ে জিজ্ঞেস করবে, ‘তা বুঝলাম কিন্তু ঘটবে কবে?’ ওদের বলো, ‘খুব শিগগিরও হতে পারে।’ যখন তিনি তোমাদের ডাকবেন আর তোমরা তাঁর প্রশংসা করতে করতে সাড়া দেবে, তখন তোমাদের মনে হবে, ‘খুব অল্প সময়ই তোমরা পৃথিবীতে কাটিয়েছ।’


সত্য অস্বীকারকারীরা পার্থিব জীবনের চাকচিক্যে খুব সহজেই মোহিত হয়

২:২১১. (হে নবী!) বনি ইসরাইলকে জিজ্ঞেস করো, কত সুস্পষ্ট বাণী আমি তাদের দিয়েছি? আল্লাহর নেয়ামত (সুস্পষ্ট বাণীকে) যারা বিকৃত করে, তাদের শাস্তিদানে আল্লাহ অতিকঠোর। ২১২. সত্য অস্বীকারকারীরা পার্থিব জীবনের চাকচিক্যে খুব সহজেই মোহিত হয়। ওরা বিশ্বাসীদের এ নিয়ে প্রায়শই ঠাট্টাবিদ্রুপ করে। অথচ মহাবিচার দিবসে আল্লাহ-সচেতনরাই ওদের চেয়ে অনেক উচ্চমর্যাদায় আসীন হবে। অবশ্য আল্লাহ যাকে চান তাকে দুনিয়ায় ‘বেহিসাব’ জীবনোপকরণ দান করেন।


কেবল দুনিয়াবী চাহিদা থেকে সাবধান

১১:১৫. কেউ যদি শুধু পার্থিব জীবনের সাফল্য ও প্রাচুর্য কামনা করে, তবে আমি তাকে কর্মের সমপরিমাণ ফল প্রদান করি। তাদের প্রাপ্য ফল থেকে কখনো তারা বঞ্চিত হবে না। ১৬. কিন্তু আখেরাতে তাদের জন্যে থাকবে শুধু আগুন। (বিশ্বাস না করায়) পৃথিবীতে তারা যা-কিছু করেছে, আখেরাতে তা নিষ্ফল হবে।

৪৬:২০. সত্য অস্বীকারকারীদের যেদিন জাহান্নামের কাছে হাজির করা হবে, সেদিন ওদের বলা হবে, তোমরা তো পার্থিব জীবনেই তোমাদের সব সুখসম্ভার ভোগ করে শেষ করেছ, আজ তোমাদের দেয়া হবে অবমাননাকর শাস্তি। কারণ তোমরা পৃথিবীতে দম্ভ ও অন্যায়ে লিপ্ত ছিলে, শাশ্বত সত্যের বিরুদ্ধাচরণ করেছিলে।

১০:৭-৮. যারা বিশ্বাস করে না যে, (পরকালে) আমার কাছেই তাদের ফিরে আসতে হবে এবং পার্থিব জীবন নিয়েই যারা পরিতুষ্ট আর আমার বাণী ও বিধিবিধানের ব্যাপারে যারা পুরোপুরি গাফেল, জাহান্নামের আগুনই হবে তাদের নিবাস, তাদের কর্মের পরিণতি!


স্রষ্টার স্মরণে বিমুখ ব্যক্তিই কেবল পার্থিব জীবনকেই গুরুত্ব দেয়

৫৩:২৯-৩০. অতএব যে আমার স্মরণে বিমুখ, তাকে উপেক্ষা করো। সে-তো কেবল পার্থিব জীবনকেই গুরুত্ব দেয়। ওদের জ্ঞানের সীমানাও এই জড়জীবন পর্যন্ত। মনে রেখো, তোমার প্রতিপালক ভালো করেই জানেন, কে পথভ্রষ্ট আর কে সত্যপথের অনুসারী।


পার্থিব জীবনের সাময়িক শোভা: ধনসম্পত্তি ও সন্তানসন্ততি

১৮:৪৬. ধনসম্পত্তি ও সন্তানসন্ততি পার্থিব জীবনের সাময়িক শোভা। আর সৎকর্ম বয়ে আনে অনন্ত কল্যাণ, তোমার প্রতিপালকের নিকট পুরস্কার প্রাপ্তির জন্যে তা অতি-উত্তম আর মনোবাঞ্ছা পূরণের চমৎকার পথ।


পার্থিব জীবনের জৌলুস / ভোগবিলাস স্রষ্টার তরফে পরীক্ষা

২০:১৩১. পরীক্ষা করার উদ্দেশ্যে সত্য অস্বীকারকারীদের কাউকে কাউকে পার্থিব জীবনের জৌলুস বাড়ানোর জন্যে যে বিলাস-উপকরণ দিয়েছি, তার দিকে কখনো তাকিও না। তোমার প্রতিপালকের দেয়া হালাল জীবনোপকরণই স্থায়ী ও বরকতময়।


ক্ষণস্থায়ী পার্থিব জীবনের ভোগ্যসামগ্রীসমূহ

৩:১৪. (পুরুষ) মানুষকে মোহগ্রস্ত করে রেখেছে নারী, সন্তানসন্ততি, সোনারুপা, (বিলাসী ভোগ্যপণ্য) বাছাইকৃত তেজি ঘোড়া, গবাদি পশু, ক্ষেত-খামার। এ সবই হচ্ছে ক্ষণস্থায়ী পার্থিব জীবনের (সাধারণ মানুষের) ভোগ্যসামগ্রী। মূলত পরমানন্দের উপকরণ তো রয়েছে শুধু আল্লাহর কাছে।

২৮:৬০. (হে মানুষ! মনে রেখো) তোমাদের এখন যা-কিছু দেয়া হয়েছে, তা পার্থিব জীবন উপভোগের উপকরণ ও মায়া। যা আল্লাহ এখনো তোমাদের জন্যে নিজের কাছে রেখেছেন, তা আরো ভালো ও স্থায়ী। এরপরও কি তোমরা তোমাদের সহজাত বিচারবুদ্ধি প্রয়োগ করবে না?


পার্থিব ধনসম্পত্তি ও সন্তানসন্ততি যেন মোহিত না করে

৯:৫৪. ওরা আল্লাহ ও তাঁর রসুলকে অমান্য করে, দায়সারাভাবে নামাজে হাজির হয় আর বিরক্তিসহকারে অর্থ সাহায্য করে বলেই ওদের দান গ্রহণ করতে নিষেধ করা হয়েছে। ৫৫. অতএব ওদের পার্থিব ধনসম্পত্তি ও সন্তানসন্ততি (থেকে প্রাপ্ত দৃশ্যমান সুখ) তোমাদের যেন মোহিত না করে। আল্লাহ তো পার্থিব জীবনে এগুলো দিয়েই ওদের শাস্তি দিতে চান। আর সত্য অস্বীকাররত অবস্থাতেই ওদের আত্মা দেহত্যাগ করবে।

১০:২৩. কিন্তু তিনি ওদেরকে বিপদ থেকে উদ্ধার করার পরই ওরা অবাধ্যতা ও জুলুমে লিপ্ত হয়। হে মানুষ! অবাধ্যতা ও জুলুমের প্রতিফল তো তোমাদের নিজেদেরই ভোগ করতে হবে। পার্থিব জীবনের জৈবিক সুখভোগকেই শুধু তুমি গুরুত্ব দিচ্ছ। (কিন্তু এ-তো সাময়িক। এরপর) আমার কাছেই তোমাদের ফিরে আসতে হবে। তখন জীবনে তুমি কী কী করেছ, তা তোমাকে পুরোপুরি অবহিত করা হবে।


পার্থিব ভোগসম্ভার ও প্রাচুর্যে যারা আসক্ত

২৩:৩৩. তার সম্প্রদায়ের নেতারাও ছিল সত্য অস্বীকারকারী। আখেরাতের জবাবদিহিতাকেও ওরা মিথ্যা মনে করত। আমি তাদের দিয়েছিলাম পার্থিব ভোগসম্ভার ও প্রাচুর্য। আর তাতেই ওরা আসক্ত হয়ে গিয়েছিল। ওরাও সম্প্রদায়ের লোকদের বলেছিল, এ (রসুল) তো তোমাদের মতোই একজন মানুষ। তোমরা যা খাও, সে-ও তা-ই খায়, তোমরা যা পান করো, সে-ও তা পান করে। ৩৪. যদি তোমরা তোমাদের মতোই একজন সাধারণ মানুষের আনুগত্য করো, তবে তোমরাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ৩৫. সে কি তোমাদের বলে যে, মৃত্যুর পর অস্থিমজ্জা মাটিতে মিশে গেলেও তোমাদেরকে কবর থেকে আবার জীবিত করে ওঠানো হবে? ৩৬. অসম্ভব! এটা কখনোই ঘটবে না। ৩৭. দুনিয়ার এ জীবনই আমাদের জীবন। আমাদের মরা বা বাঁচা এখানেই। আমরা কখনোই পুনরুত্থিত হবো না। ৩৮. ‘এই লোকটি আল্লাহর নামে অনর্থক মিথ্যা বলছে। আমরা তাকে বিশ্বাস করি না।’

২:১৬৬. পার্থিব জীবনে চাকচিক্য ও মোহাচ্ছন্ন হয়ে অনুসারীরা যাদের অনুসরণ করেছে, (মহাবিচার দিবসে সেই) অনুসৃতরা যখন তাদের অনুসারীদের দায়িত্ব নিতে অস্বীকার করবে এবং অনুসারীরা যখন আসন্ন শাস্তি প্রত্যক্ষ করবে, তখন তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক পুরোপুরি ছিন্ন হয়ে যাবে। ১৬৭. অনুসারীরা তখন বলবে, হায়! যদি একবার দুনিয়ার জীবনে ফিরে যেতে পারতাম, তাহলে ওরা আজ যেভাবে সম্পর্ক ছিন্ন করল, আমরাও একইভাবে ওদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করতাম। আল্লাহ ওদের সকল কৃতকর্ম ওদেরকে এমন পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে দেখাবেন যে, ওরা শুধু পরিতাপ করতে থাকবে। কিন্তু ওরা কখনো জাহান্নামের অগ্নিকুণ্ড থেকে বেরোনোর পথ পাবে না।


পার্থিব জীবনের মোহে আচ্ছন্ন অবস্থায় মানুষ খেল-তামাশা, ফুর্তি ও বিনোদনকেই নিজেদের ধর্মরূপে গ্রহণ করে

৭:৫০-৫১. জাহান্নামীরা জান্নাতীদের কাছে আবেদন করবে, ‘সামান্য পানি আমাদের দিকে ঢেলে দাও অথবা আল্লাহ যা তোমাদের রিজিক হিসেবে দিয়েছেন, তা থেকে কিছু আমাদের দিকে পাঠাও।’ তখন জান্নাতীরা বলবে, ‘আল্লাহ এ দুটো জিনিসই এখন সত্য অস্বীকারকারীদের জন্যে হারাম করেছেন। তোমরা পার্থিব জীবনের মোহে আচ্ছন্ন ছিলে, আর খেল-তামাশা, ফুর্তি ও বিনোদনকেই নিজেদের ধর্মরূপে গ্রহণ করেছিলে।’ (এবং তখন আল্লাহ বলবেন) অতএব আজ আমি ওদের সেভাবেই ভুলে যাব, যেভাবে পার্থিব জীবনে ওরা এ মহাবিচার দিবসকে ভুলে গিয়েছিল, আমার বিধিবিধানকে অস্বীকার করেছিল। ৫২. কারণ আমি ওদের কাছে পবিত্র কিতাব পাঠিয়েছি, যাতে সত্যপথের বিজ্ঞোচিত বয়ান ছিল, আর বিশ্বাসীদের জন্যে এ ছিল সুস্পষ্ট দিক-নির্দেশনা ও রহমত।

৬:৭০. পার্থিব ভোগবিলাসের মোহে যারা আচ্ছন্ন, বিনোদন-খেলা-তামাশাকেই যারা নিজেদের ধর্ম বা জীবনের লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করে আত্মপ্রতারণায় ভুগছে, তুমি তাদের সঙ্গ বর্জন করো। তুমি ওদের কোরআনের বাণী শোনাও ও উপদেশ দাও। আর সতর্ক করে দাও সেদিন সম্পর্কে, যেদিন ওদের সকল কৃতকর্মের হিসাব নেয়া হবে। আর তখন আল্লাহর শাস্তি থেকে রক্ষা করার জন্যে ওদের কোনো অভিভাবক বা সুপারিশকারী থাকবে না, সেদিন কোনো মুক্তিপণও গ্রহণ করা হবে না। সত্য অস্বীকার করার কারণে ওরা তখন পান করবে ফুটন্ত আঠালো পানীয় আর ভোগ করবে কঠিন শাস্তি।


পার্থিব জীবনকেই একমাত্র জীবন মনে করা

৪৫:২৪. এরপরও ওরা বলে, ‘পার্থিব জীবন একমাত্র জীবন। এর বাইরে কিছু নেই। যেভাবে জন্মেছি, সেভাবেই মারা যাব। মহাকাল বা সময়ই আমাদের বিনাশের কারক।’ (আফসোস!) আসল সত্য সম্পর্কে ওদের কোনো জ্ঞান নেই। ওরা নিছক আন্দাজ-অনুমান করে কথা বলে (আর তাকেই জ্ঞান বলে চালিয়ে দেয়)। ২৫. ওদের কাছে যখন সুস্পষ্টভাবে আমার সত্যবাণী শোনানো হয়, তখন ওদের কোনো যুক্তি থাকে না। শুধু বলে, ‘তোমরা সত্যবাদী হলে আমাদের মৃত বাপদাদাদের জীবিত করে দেখাও!’

৬:২৯. সত্য অস্বীকারকারীরা বলে, ‘আমাদের এ পার্থিব জীবনই একমাত্র জীবন। মৃত্যুর পর আমরা কখনোই পুনরুত্থিত হবো না।’ ৩০. (হায়!) তুমি যদি দেখতে পেতে! যেদিন ওদেরকে প্রতিপালকের সামনে উপস্থিত করা হবে, যখন তিনি ওদেরকে জিজ্ঞেস করবেন, এ পুনরুত্থান কি প্রকৃত সত্য নয়? তখন ওরা বলবে, ‘আমাদের প্রতিপালকের শপথ! এ নিশ্চয়ই সত্য।’ তখন তিনি বলবেন, ‘তাহলে সত্য অস্বীকারের জন্যে এখন শাস্তি ভোগ করো।’

১৪:২-৩. মহাকাশ ও পৃথিবীর সবকিছুর মালিক আল্লাহ। দুর্ভোগ তাদের জন্যে, যারা সত্যকে অস্বীকার করে। কঠিন দুর্ভোগ তাদের জন্যেও, যারা পরকালীন জীবনের পরিবর্তে শুধু পার্থিব জীবনকেই তাদের সকল চাওয়াপাওয়ার লক্ষ্যস্থলে পরিণত করে। কঠিন শাস্তি অপেক্ষা করছে তাদের জন্যে, যারা মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে ফেরাতে চেষ্টা করে আর আল্লাহর সরলপথকে জটিলরূপে উপস্থাপিত করে (মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে)। নিঃসন্দেহে ওরা ঘোর বিভ্রান্তিতে নিমজ্জিত।


পৃথিবীর উপভোগের উপকরণের জন্য কৃতজ্ঞতা কাম্য

৭:১০. হে মানুষ! আমি পৃথিবীতে তোমাদের (প্রাচুর্য, সম্পত্তি ও ক্ষমতায়) প্রতিষ্ঠিত করেছি এবং দিয়েছি জীবনের সকল উপকরণ। হায়! তারপরও তোমরা কত কম কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো!


পার্থিব জীবনের ক্ষণস্থায়ী বিলাস-উপকরণ

৪৩:৩৩-৩৫. (প্রচুর ধনসম্পত্তি পেলে) সত্য প্রত্যাখ্যানকারীরা একক সম্প্রদায়ে রূপান্তরিত হবে, এমন আশঙ্কা না থাকলে দয়াময়কে যারা অস্বীকার করে আমি তাদের ঘরের ছাদ, সিঁড়ি, দরজা, পালঙ্ক সব রুপার বানিয়ে দিতাম, দিতাম স্বর্ণের তৈজসপত্র। কিন্তু এ সবই তো হচ্ছে পার্থিব জীবনের ক্ষণস্থায়ী বিলাস-উপকরণ। অবশ্যই আল্লাহ-সচেতনদের জন্যে তোমার প্রতিপালকের কাছে রয়েছে পরকালের অনন্ত কল্যাণ।

৯:৮৪. ওদের কারো মৃত্যু হলে (হে নবী!) তুমি কখনো ওদের জানাজা পড়াবে না বা কবরের পাশে দাঁড়াবে না (যদি না মৃত্যুর আগে ওরা তওবা করে)। কারণ ওরা তো আল্লাহ ও তাঁর রসুলকে অস্বীকার করেছিল এবং সত্যত্যাগী অবস্থায় মারা গেছে। ৮৫. তাই ওদের ধনসম্পত্তি ও সন্তানসন্ততির আধিক্য তোমাকে যেন দুর্বল না করে। আল্লাহ তো এগুলো দিয়েই ওদের পার্থিব জীবনে শাস্তি দিতে চান। আর এগুলোই সত্য অস্বীকারকারী হিসেবে ওদের মৃত্যুর কারণ হবে।


পার্থিব জীবনে একজনকে অন্যজনের ওপর মর্যাদায় উন্নীত করা সৃষ্টিগত স্বাভাবিকতা

৪৩:৩২. (হে নবী! ওদের জিজ্ঞেস করো) ‘তোমার প্রতিপালকের অনুগ্রহ কি ওরা বণ্টন করে?’ বরং আমিই ওদের মধ্যে জীবিকা বণ্টন করি এবং পার্থিব জীবনে একজনকে অন্যজনের ওপর মর্যাদায় উন্নীত করি, যাতে একে অপরের সহযোগিতা নিতে পারে। কিন্তু ওদের প্রভাবশালীরা যা সঞ্চয় করে, তার চেয়ে তোমার প্রতিপালকের রহমত অনেক উত্তম।

১৭:২০-২১. তোমার প্রতিপালক উভয় দলকেই দুনিয়ায় মুক্তহস্তে দিয়ে থাকেন। পার্থিব জীবনোপকরণ লাভের দরজা সবার জন্যেই অবারিত। তাকাও! দেখ! দুনিয়ার ক্ষেত্রেই আমি একজনকে অন্যজনের ওপর বৈশিষ্ট্য ও মর্যাদা দিয়েছি। অতএব পার্থিব মর্যাদার চেয়ে আখেরাতে এ মর্যাদা হবে মহত্তর এবং গুণগতভাবে শ্রেষ্ঠতর।

৪৫:৩৫. তোমাদের এই করুণ পরিণতির কারণ হচ্ছে, ‘তোমরা আল্লাহর সত্যবাণী নিয়ে বিদ্রুপ করেছিলে আর পার্থিব জীবনের মোহ দ্বারা তোমরা প্রবঞ্চিত হয়েছিলে।’ অতএব আজ আর জাহান্নাম থেকে তোমাদের বের হওয়ার কোনো সুযোগ থাকছে না, না থাকছে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্যে কোনো ধরনের চেষ্টা করার সুযোগ।


পার্থিব জীবনের স্থায়ীত্ব

৪৭:৩৬-৩৭. (হে মানুষ!) পার্থিব জীবন তো পুতুলখেলার মতো ক্ষণস্থায়ী। যদি তোমরা বিশ্বাসী হও ও আল্লাহ-সচেতনতার নীতি অনুসরণ করো, তবে তিনি তোমাদের পুরস্কৃত করবেন। তাছাড়া তিনি তো (আল্লাহর পথে) সব ধনসম্পত্তি চান নি। তিনি যদি সকল ধনসম্পত্তি চাইতেন এবং সেজন্যে তোমাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করতেন, তাহলে তোমরা কার্পণ্য করতে এবং তোমাদের মনের সুপ্ত দোষটি প্রকাশিত হয়ে পড়ত।


আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্যে যে সৌন্দর্য সৃষ্টি করেছেন এবং যে বিশুদ্ধ ও ভালো জীবনোপকরণ দিয়েছেন – বিশ্বাসীদের জন্যে এগুলো পার্থিব জীবনে হালাল

৭:৩২. হে নবী! ওদের বলো, আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্যে যে সৌন্দর্য সৃষ্টি করেছেন এবং যে বিশুদ্ধ ও ভালো জীবনোপকরণ দিয়েছেন, তা হারাম করার শক্তি কার আছে? বলো, বিশ্বাসীদের জন্যে এগুলো পার্থিব জীবনে হালাল। আর মহাবিচার দিবসে আল্লাহর সকল নেয়ামত তো শুধু বিশ্বাসীদের জন্যেই। জ্ঞান অন্বেষণকারীদের জন্যে আমি এরকম সুস্পষ্টভাবেই আমার বাণীকে বয়ান করি।


আল্লাহর সাবধানতা: পার্থিব জীবনের মোহ যেন তোমাদের বিভ্রান্ত না করে

৩১:৩৩. হে মানুষ! তোমরা তোমাদের প্রতিপালক সম্পর্কে সচেতন হও এবং ভয় করো সেদিনের, যেদিন পিতা সন্তানের কোনো উপকারে আসবে না, না সন্তান পিতার কোনো উপকার করতে পারবে। অবশ্যই আল্লাহর প্রতিশ্রুত (পুনরুত্থান) অনিবার্য সত্য। সুতরাং পার্থিব জীবনের মোহ যেন তোমাদের বিভ্রান্ত না করে এবং আল্লাহ সম্পর্কে প্রবঞ্চনামূলক চিন্তাভাবনাকে প্রশ্রয় দিয়ে শয়তানের ধোঁকায় যেন পড়ে না যাও।

৩:১১৬. যারা সত্য অস্বীকার করে, তাদের ধনদৌলত বা সন্তানসন্ততি শেষ পর্যন্ত তাদের কোনো উপকারে আসবে না। ওদের ঠিকানা হবে জাহান্নাম। সেখানেই ওরা থাকবে চিরকাল। ১১৭. পার্থিব জীবনে যা-কিছু ওরা ব্যয় করে, তার উপমা হচ্ছে এমন এক তুষারঝড়ের মতো, যা শস্যক্ষেতে আঘাত হেনে সব তছনছ করে দেয়। আল্লাহ ওদের ওপর কোনো অবিচার করেন নি। ওরা নিজেরাই নিজেদের ওপর জুলুম করেছে।

৩৫:৫. হে মানুষ! আল্লাহর প্রতিশ্রুত পুনরুত্থান এক অনিবার্য সত্য! অতএব পার্থিব জীবনের মোহে যেন আটকে না পড়ো এবং আত্মপ্রবঞ্চনামূলক ধ্যানধারণা যেন তোমাদেরকে ধোঁকায় না ফেলে। ৬. আসলে শয়তান তোমাদের শত্রু। অতএব তাকে শত্রু হিসেবেই গ্রহণ করো। সে-তো তার দলবলকে প্রলুব্ধ করে, যাতে তাদের শেষ ঠিকানা হয় জাহান্নামের লেলিহান শিখা।


পার্থিব জীবন তো এক মরীচিকাপূর্ণ ভোগ-বিভ্রম ছাড়া কিছুই নয়

৩:১৮৫. প্রতিটি প্রাণকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে। মহাবিচার দিবসে তোমাদের সবাইকে কর্মফল পুরোপুরিই দেয়া হবে। সফল মানুষ হবে সে-ই, যাকে লেলিহান আগুন থেকে দূরে রাখা হবে এবং জান্নাতে দাখিল করা হবে। আর শুধু পার্থিব জীবন তো এক মরীচিকাপূর্ণ ভোগ-বিভ্রম ছাড়া কিছুই নয়।


পরকালীন অনন্ত সুখের তুলনায় পার্থিব জীবনের ভোগের উপকরণ অতিতুচ্ছ!

৯:৩৮. হে বিশ্বাসীগণ! তোমাদের কী হয়েছে? যখন তোমাদের আল্লাহর পথে সর্বাত্মক সংগ্রামে শামিল হওয়ার ডাক দেয়া হচ্ছে, তখন তোমরা (গৃহপালিত পশুর ন্যায়) ঘরের কোণায় নিজেকে আটকে রাখতে চাচ্ছ? তোমরা কি পরকালীন কল্যাণের পরিবর্তে পার্থিব আরাম-আয়েশকেই প্রাধান্য দিচ্ছ? অথচ পরকালীন অনন্ত সুখের তুলনায় পার্থিব জীবনের ভোগের উপকরণ তো অতিতুচ্ছ! ৩৯. যদি তোমরা আল্লাহর পথে সর্বাত্মক সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে না পড়ো, তবে তিনি তোমাদের লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি দেবেন এবং অন্য কোনো জনগোষ্ঠীকে তোমাদের স্থলাভিষিক্ত করবেন। তোমরা (সংগ্রাম থেকে নিবৃত্ত হয়ে) আল্লাহর কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। কারণ যা-ইচ্ছা তা করার ক্ষমতা আল্লাহর রয়েছে।


পার্থিব ভোগবিলাস কামনা করে, তাদের সাথে সম্পর্ক নবীর প্রয়োজন নেই

৩৩:২৮-২৯. হে নবী! তুমি তোমার স্ত্রীদের বলো, ‘তোমরা যদি পার্থিব ভোগবিলাস কামনা করো, তাহলে এসো, আমি তোমাদের বিলাস-সামগ্রীর ব্যবস্থা করে দেই এবং সৌজন্যের সাথে তোমাদের বিদায়ের ব্যবস্থা করি। আর তোমরা যদি আল্লাহ, তাঁর রসুল এবং পরকালীন জীবনের সাফল্য চাও, তাহলে (মনে রেখো) তোমাদের মধ্যে যারা সৎকর্ম করবে, আল্লাহ তাদের জন্যে মহাপুরস্কার প্রস্তুত করে রেখেছেন।’


পার্থিব জীবনেই আল্লাহর সাহায্য ও আসন্ন বিজয়ের প্রতিশ্রুতি

৬১:১০. হে বিশ্বাসীগণ! আমি কি তোমাদেরকে এমন এক বিনিয়োগের সন্ধান দেবো, যা (ইহকাল ও পরকালে) তোমাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক আজাব থেকে রক্ষা করবে? ১১. তা হচ্ছে, তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রসুলে পূর্ণ বিশ্বাস রাখবে এবং আল্লাহর পথে জানমাল দিয়ে সংগ্রাম করবে। এতেই তোমাদের মঙ্গল, যদি তোমরা বুঝতে! ১২. (যদি তোমরা তা করো, তবে) আল্লাহ তোমাদের পাপমোচন করবেন। তোমাদের দাখিল করবেন জান্নাতে, যার পাদদেশে থাকবে প্রবহমান ঝর্নাধারা। চিরকাল থাকার জন্যে দেবেন জান্নাতের উত্তম বাসস্থান। আর এটাই মহাসাফল্য। ১৩. আর তিনি দান করবেন তোমাদের প্রিয় চাওয়া—পার্থিব জীবনেই আল্লাহর সাহায্য ও আসন্ন বিজয়। (অতএব হে নবী!) বিশ্বাসীদের এ সুখবর দাও।

৯৯:৭. যে পৃথিবীতে অণুপরিমাণ সৎকর্ম করেছে, সে তা দেখতে পাবে।


যে কাজের প্রতিফল পার্থিব জীবনে লাঞ্ছনা ও অপমান

২:৮৫. তারপরও তোমরা একে অন্যকে খুন করেছ, তোমাদের একদলকে আরেক দল দেশছাড়া করেছ, তোমাদেরই একদল অন্যদলের ওপর অন্যায় ও জুলুমে জালেমদের মদদ দিয়েছ। আবার তারাই বন্দিরূপে তোমাদের সামনে হাজির হলে মুক্তিপণ নিয়ে তাদের মুক্ত করেছ। অথচ তাদের দেশছাড়া করাটাই তোমাদের জন্যে অবৈধ ছিল। তবে কি তোমরা আল্লাহর বিধিবিধানের কিছু অংশ বিশ্বাস করো এবং কিছু অংশ প্রত্যাখ্যান করো? তোমাদের মধ্যে যারাই এমন কাজ করবে, তারা প্রতিফল হিসেবে পার্থিব জীবনে পাবে লাঞ্ছনা ও অপমান। আর মহাবিচার দিবসে তো তাদের জন্যে অপেক্ষা করছে আরো কঠিন শাস্তি। তোমরা যা করো আল্লাহ সবই জানেন।

২:২০৪. (মনে রেখো) এমন মানুষ আছে, পার্থিব জীবন সম্পর্কে যার আলাপচারিতা তোমাকে মোহিত করবে আর তার অন্তরের সততা প্রমাণের জন্যে বার বার সে আল্লাহকে সাক্ষী মানবে। আসলে সে বিতর্কে পটু (প্রতিপক্ষকে কুপোকাত করতে বিভ্রান্তিকর যুক্তি প্রয়োগে সিদ্ধহস্ত)। ২০৫. কিন্তু যখনই সে ক্ষমতা ও সুযোগ পায় তখনই জমিনে অশান্তি ও ত্রাস সৃষ্টি করে শস্য ও প্রাণিকুল ধ্বংস করে। আসলে আল্লাহ অশান্তি ও ত্রাস সৃষ্টিকারীদের অপছন্দ করেন। ২০৬. আর যখন তাকে বলা হয়, ‘আল্লাহ-সচেতন হও’ তখন তার মিথ্যা অহমিকা তাকে পাপে লিপ্ত করায়। তার উপযুক্ত জায়গা হচ্ছে জাহান্নাম। নিঃসন্দেহে এটি একটি নিকৃষ্ট ঠিকানা!


পার্থিব জীবনের কর্মফল হিসেবেই জান্নাতের উত্তরাধিকার

৭:৪২. বিশ্বাসী ও সৎকর্মশীল কারো ওপর আমি তার সাধ্যের অতিরিক্ত দায়িত্বের বোঝা চাপিয়ে দেই না। তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং সেখানেই তারা বাস করবে চিরকাল। ৪৩. তাদের অন্তরে যদি কোনো নেতিবাচক চিন্তা বা অনুভূতি অবশিষ্ট থাকে তা-ও আমি দূর করে দেবো। প্রবাহিত ঝর্নার পাশে বসে তারা বলবে, ‘শোকর আলহামদুলিল্লাহ! সকল প্রশংসা আল্লাহর! যিনি আমাদের এ পথ দেখিয়েছেন। আল্লাহ পথ না দেখালে আমরা কখনো এ সত্যপথ পেতাম না। আল্লাহর প্রেরিত রসুলরা তো সত্যবাণী নিয়ে এসেছিলেন।’ তখন তাদের বলা হবে, ‘তোমাদের পার্থিব জীবনের কর্মফল হিসেবেই তোমরা এ জান্নাতের উত্তরাধিকারী হয়েছ।’


পার্থিব জীবনের জাঁকজমকের খেয়াল থেকে সাবধান

১৮:২৭. হে নবী! তোমার প্রতিপালকের প্রেরিত কিতাব থেকে ওদের পাঠ করে শোনাও। তাঁর বাণী পরিবর্তন করার কেউ নেই। আর তোমারও তিনি ছাড়া কোনো আশ্রয় নেই। ২৮. প্রতিপালকের সন্তুষ্টিলাভের জন্যে যারা সকাল-সন্ধ্যায় তাঁকে ডাকে, তুমি সবসময় তাদের সাথে একাত্ম থেকো। পার্থিব জীবনের জাঁকজমকের খেয়াল যেন তোমার দৃষ্টিকে তাদের থেকে দূরে সরিয়ে না নেয়। আর আমাকে স্মরণ করার ব্যাপারে যাদের হৃদয়কে আমি অমনোযোগী দেখছি, যারা তাদের খেয়ালখুশির অনুসরণ করে সত্য ও ন্যায়ের সীমা লঙ্ঘন করে, তুমি কখনো তাদের কথা শুনো না। ২৯. হে নবী! ওদের স্পষ্ট করে বলো, তোমাদের প্রতিপালকের কাছ থেকে সত্যধর্ম এসেছে। অতএব যার ইচ্ছা বিশ্বাস করুক, যার ইচ্ছা সত্য প্রত্যাখ্যান করুক। নিশ্চয়ই আমি সত্য প্রত্যাখ্যানকারী জালেমদের জন্যে জাহান্নাম প্রস্তুত করে রেখেছি, যার লেলিহান শিখা ওদের গ্রাস করবে। ওদের পান করতে দেয়া হবে আঠালো ফুটন্ত পানীয়, যা ওদের মুখ পুড়িয়ে দেবে। কত না নিকৃষ্ট এ পানীয়! আর জাহান্নাম কত না নিকৃষ্ট নিবাস!

৯:৬৯. (হে নবী! ওদের বলো) তোমাদের আচরণ তো তোমাদের পূর্বসূরি মুনাফেকদের মতোই। অবশ্য ওরা ক্ষমতা ও ধনসম্পত্তিতে ছিল তোমাদের চেয়েও প্রবল। আর ওদের সন্তানসন্ততিও ছিল তোমাদের চেয়ে অনেক বেশি। ওরা যেমন পার্থিব জৌলুস উপভোগ করেছিল, তোমরাও ভোগ করেছ তোমাদের পার্থিব জৌলুস। ওরা যেমন (সত্য নিয়ে) অনর্থক তর্কবিতর্ক, আলাপ-আলোচনায় মত্ত থাকত, তোমরাও তেমনি অহেতুক তর্কবিতর্ক ও আলাপ-আলোচনায় নিমগ্ন রয়েছ। ওদের সকল কাজ দুনিয়াতে নিষ্ফল হয়েছে, আখেরাতেও ওরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। চূড়ান্ত বিচারে ওরাই ব্যর্থ (আর অনুশোচনা না করলে তোমাদের পরিণতিও হবে চূড়ান্ত ব্যর্থতা)।

৭৩:১১-১৪. যারা সত্য অস্বীকার করছে, ওদের বিষয়টি আমার ওপর ছেড়ে দাও। জীবনের বিলাস-সামগ্রী ওরা ভোগ করছে, তা ভোগ করার জন্যে আরো কিছুটা সুযোগ দাও। ওদের জন্যে আমার কাছে আছে শৃঙ্খল ও গনগনে আগুন, আছে এমন খাবার যা গলায় আটকে যায়, আছে আরো যন্ত্রণাদায়ক আজাব। আর তা বাস্তবরূপ লাভ করবে সেদিন, যেদিন পৃথিবী প্রকম্পিত হবে, পাহাড়-পর্বত চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে পরিণত হবে উড়ন্ত ধূলিকণায়।

২৫:১৮. ঐ উপাস্যরা (তখন সমস্বরে) বলবে, ‘তুমি পবিত্র মহামহান! তোমার বদলে অন্য কাউকে নিজেদের প্রভু হিসেবে গ্রহণ করার কথা তো আমরা চিন্তাও করতে পারি না। প্রভু! তুমিই তো ওদেরকে এবং ওদের বাপদাদাদের পার্থিব জীবন উপভোগের এত উপকরণ দিয়েছিলে যে, শেষ পর্যন্ত ওরা তোমার কথাই ভুলে গিয়েছিল এবং বিনাশিত হয়েছিল।’ ১৯. আল্লাহ তখন শরিককারীদের বলবেন, ‘তোমাদের উপাস্যরাই তোমাদেরকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে। তাই তোমাদের শাস্তি অনিবার্য। আজ কেউ তোমাদের সাহায্য করবে না। সীমালঙ্ঘনকারীরা অবশ্যই কঠিন শাস্তি আস্বাদন করবে।’


পার্থিব জীবনের আসক্তিতে মানুষ প্রবৃত্তির দাস হয়ে যায়

৭:১৭৫. হে নবী! ওদেরকে সেই লোকের কথা শোনাও, যাকে আমি আমার কালামের জ্ঞান দান করেছিলাম। কিন্তু পরে সে তা পরিত্যাগ করে। শয়তান এমনভাবে তার পেছনে লাগে যে, সে পথভ্রষ্টদের মধ্যে শামিল হয়। ১৭৬. আমি ইচ্ছে করলে কালামের জ্ঞান দিয়ে তার মর্যাদা সমুন্নত করতে পারতাম। কিন্তু সে পার্থিব জীবনের আসক্তিতে পড়ে গেল আর দাস হয়ে গেল প্রবৃত্তির। আসলে তার অবস্থা হলো সেই কুকুরের মতো, যাকে তুমি তাড়া করলেও জিহ্বা বের করে হাঁপাতে থাকে আর তাড়া না করলেও বসে বসে জিহ্বা বের করে হাঁপায়। যে সম্প্রদায় আমার বাণীকে প্রত্যাখ্যান করে, তাদের অবস্থানও একই রকম। অতএব হে নবী! তুমি ওদের কাছে এ ঘটনা বর্ণনা করো, যাতে ওরা (নিজের অবস্থা নিয়ে) একটু ভাবার সুযোগ পায়।


যেমন চাওয়া তেমন পাওয়া

৪২:২০. কেউ তার কর্মফল পরকালে পেতে চাইলে আমি তার ফলন বাড়িয়ে দেই আর কেউ দুনিয়ায় কর্মফল পেতে চাইলে তাকে দুনিয়াতেই দেই, পরকালে তার পাওয়ার কিছু থাকবে না।

১৭:১৮. (হে মানুষ!) যারা পার্থিব সুখসম্ভোগ কামনা করে, আমি ইচ্ছামতো তাদেরকে পৃথিবীতেই তা দেই। তারপর পরকালের জন্যে জাহান্নাম বরাদ্দ করি। সেখানে তারা লাঞ্ছিত ও পরিত্যক্ত অবস্থায় পুড়তে থাকবে। ১৯. যারা পরকালীন কল্যাণ কামনা করে এবং সে উদ্দেশ্যে সর্বাত্মক প্রয়াস চালায়, তারাই সত্যিকার বিশ্বাসী। তাদের প্রয়াস অবশ্যই যথাযথ পুরস্কারযোগ্য।


সৎকর্মের বিনিময় দুনিয়াতে সার্থক জীবন

১৬:৯৭. বিশ্বাসী পুরুষ হোক বা নারী, যে-ই সৎকর্ম করবে তাকে দুনিয়ায় সার্থক জীবন দান করব এবং পরকালে সে তার কাজের শ্রেষ্ঠ পুরস্কার পাবে।


আল্লাহর কালামে বিশ্বাসীদের, আল্লাহ দুনিয়া ও আখেরাত উভয় স্থানেই সুপ্রতিষ্ঠিত ও সম্মানিত করবেন

১৪:২৭. যারা আল্লাহর কালামে বিশ্বাসী, আল্লাহ তাদের দুনিয়া ও আখেরাত উভয় স্থানেই সুপ্রতিষ্ঠিত ও সম্মানিত করবেন। আর জালেমদের তিনি বিভ্রান্তিতে নিমজ্জিত হতে দেন। আল্লাহ তা-ই করেন, যা তিনি ইচ্ছা করেন।

৪০:৫১-৫২. আমি আমার রসুল ও বিশ্বাসীদের সাহায্য করব দুনিয়ায়, সাহায্য করব মহাবিচার দিবসে, যেদিন সাক্ষীরা দণ্ডায়মান হবে। সেদিন অবশ্য জালেমদের কোনো অজুহাতই কোনো কাজে আসবে না। ওদের ওপর লানত। ওদের জন্যে রয়েছে দুর্ভোগের নিকৃষ্ট নিবাস!


যারা দুনিয়ার জীবনের বিনিময়ে আখেরাতের জীবনকে বেছে নিয়েছে, তাদের কর্তব্য হচ্ছে আল্লাহর পথে সর্বাত্মক সংগ্রাম করা

৪:৭৪. অতএব যারা দুনিয়ার জীবনের বিনিময়ে আখেরাতের জীবনকে বেছে নিয়েছে, তাদের কর্তব্য হচ্ছে আল্লাহর পথে সর্বাত্মক সংগ্রাম করা। আল্লাহর পথে সংগ্রাম করে কেউ নিহত হোক বা বিজয়ী হোক, আমি তাকে মহাপুরস্কার প্রদান করব।

৮৭:১৬-১৯. (কিন্তু হে মানুষ!) এত কিছু জানার পরও তোমরা পার্থিব জীবনকেই প্রাধান্য দাও, অথচ পরকালই স্থায়ী ও মহাকল্যাণময়। (শুধু কোরআনেই নয়) ইব্রাহিম ও মুসার কিতাবসহ পূর্ববর্তী কিতাবসমূহে এ কথাই বলা হয়েছে।


অনুবাদ সহায়িকা: আল কোরআন বাংলা মর্মবাণী, কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন

Print Friendly, PDF & Email

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।