৭:১৭৫. হে নবী! ওদেরকে সেই লোকের কথা শোনাও, যাকে আমি আমার কালামের জ্ঞান দান করেছিলাম। কিন্তু পরে সে তা পরিত্যাগ করে। শয়তান এমনভাবে তার পেছনে লাগে যে, সে পথভ্রষ্টদের মধ্যে শামিল হয়। ১৭৬. আমি ইচ্ছে করলে কালামের জ্ঞান দিয়ে তার মর্যাদা সমুন্নত করতে পারতাম। কিন্তু সে পার্থিব জীবনের আসক্তিতে পড়ে গেল আর দাস হয়ে গেল প্রবৃত্তির। আসলে তার অবস্থা হলো সেই কুকুরের মতো, যাকে তুমি তাড়া করলেও জিহ্বা বের করে হাঁপাতে থাকে আর তাড়া না করলেও বসে বসে জিহ্বা বের করে হাঁপায়। যে সম্প্রদায় আমার বাণীকে প্রত্যাখ্যান করে, তাদের অবস্থানও একই রকম। অতএব হে নবী! তুমি ওদের কাছে এ ঘটনা বর্ণনা করো, যাতে ওরা (নিজের অবস্থা নিয়ে) একটু ভাবার সুযোগ পায়।

৭:১৭৭. যে সম্প্রদায় আমার বাণীকে প্রত্যাখ্যান করে, তারা আসলে নিজেরাই নিজেদের ওপর জুলুম করে। ওদের অবস্থা কতই না খারাপ! ১৭৮. যে চায়, আল্লাহর (নিয়মানুসারে) সাফল্যের সরলপথ পায়, আর (পাপাচারের কারণে) আল্লাহ যাদের বিপথগামী হতে ছেড়ে দেন, তারাই ক্ষতিগ্রস্ত।

৭:৭২. তারপর আমি নিজ অনুগ্রহে হুদ ও তার সঙ্গীদের উদ্ধার করি। আর যারা আমার বাণীকে বিশ্বাস না করে প্রত্যাখ্যান করেছিল, তাদের সমূলে বিনাশ করি।

৭:১৪৬. পৃথিবীতে যারা অন্যায় করে আর দম্ভভরে ঘুরে বেড়ায়, তারা আমার বাণী থেকে সবসময়ই মুখ ফিরিয়ে রাখবে। (সত্যের) সকল নিদর্শন দেখার পরও ওরা এতে বিশ্বাস করবে না। সাফল্যের সরলপথ দেখার পরও তাকে পথ বলে গ্রহণ করবে না। বরং ভ্রান্ত পথকেই ওদের কাছে আকর্ষণীয় পথ বলে মনে হবে। কারণ ওরা আমার বাণীকে প্রথমেই প্রত্যাখ্যান করেছে এবং কখনো এর গভীরে প্রবেশ করতে চায় নি।

৭:১৮২. যারা আমার বাণীকে মিথ্যা মনে করে প্রত্যাখ্যান করে, তারা নিজেরাই নিজেদের অজান্তে ক্রমান্বয়ে ধ্বংসের দিকে যেতে থাকে। ১৮৩. আমি ওদেরকে (সত্যে ফিরে আসার) সময় দেই। আমার সূক্ষ্ম কর্মকৌশল যথাযথ ও নিপুণ! ১৮৪. এরপরও ওরা কি ধ্যানমগ্ন হয়ে ভেবে দেখবে না যে, ওদের সঙ্গী কোনো অর্থেই পাগল নয়? সে-তো একজন সুস্পষ্ট সতর্ককারী মাত্র।

৬:১৫০. (হে নবী! ওদের) বলো, ‘আল্লাহ যে এসব হারাম করেছেন, এ ব্যাপারে তোমাদের সাক্ষী হাজির করো।’ তারা এ ব্যাপারে (মিথ্যা) সাক্ষ্যও পেশ করতে পারে, কিন্তু তুমি তা অবশ্যই গ্রহণ করবে না। যারা আমার বাণীকে প্রত্যাখ্যান করে, যারা আখেরাতে অবিশ্বাস করে এবং যারা কল্পিত উপাস্য সৃষ্টি করে তোমার প্রতিপালকের সাথে শরিক করে, তাদের ভ্রান্ত মতবাদকে পাত্তা দিও না।

৪০:৪. কেবল সত্য অস্বীকারকারীরাই আল্লাহর বাণী নিয়ে বিতর্কে লিপ্ত হয়। দুনিয়ায় ওরা এখন ইচ্ছামতো অনেক কিছু করতে পারছে, (কিন্তু হে নবী!) তা যেন তোমাকে বিভ্রান্ত না করে। ৫. নূহের সম্প্রদায় সত্যকে প্রত্যাখ্যান করেছিল এবং পরবর্তীতে বহু সম্প্রদায় তাদের রসুলকে প্রত্যাখ্যান করেছে। সত্যধর্মকে নিশ্চিহ্ন করার জন্যে প্রত্যেক সম্প্রদায়ই অসার যুক্তি নিয়ে বিতর্কে লিপ্ত হয়েছে, রসুলদের নিরস্ত করার (ও তাদের প্রাণনাশের) চক্রান্ত করেছে। শেষ পর্যন্ত আমিই সত্য অস্বীকারকারীদের শায়েস্তা করেছি। কত কঠোর ছিল আমার শাস্তি! ৬. এভাবেই সত্য অস্বীকারকারীদের ব্যাপারে তোমার প্রতিপালকের বাণী সত্য হবে যে, শেষ পর্যন্ত ওরা নিজেদেরকে জাহান্নামে দেখতে পাবে।

১০:৭৩. ওরা তাকে মানতে অস্বীকার করে। আমি নূহ ও তার নৌকায় আরোহণকারী সাথিদের উদ্ধার করি এবং তাদেরকে জমিনের উত্তরাধিকার দান করি। আর যারা আমার বাণীকে প্রত্যাখ্যান করেছিল, তাদের পানিতে নিমজ্জিত করি। সুতরাং যারা সতর্কবাণী শোনে নি, তাদের পরিণতি কী হয়েছিল দেখ!

৭:৪০. অবশ্যই যারা আমার বাণীকে প্রত্যাখ্যান করার অহংকার করে, তাদের জন্যে ‘কল্যাণের’ দরজা কখনো খোলা হবে না। একটি সুঁইয়ের ছিদ্র দিয়ে উটের প্রবেশ যেমন অসম্ভব, সত্য অস্বীকারকারীদের জান্নাতে প্রবেশও তেমনি অসম্ভব। জালেমদের এভাবেই আমি প্রতিফল দিয়ে থাকি। ৪১. জাহান্নামে আগুনই হবে ওদের বিছানা, আগুনই হবে গায়ে জড়ানোর চাদর। জালেমদের এটাই হবে উপযুক্ত শাস্তি।

১০:১৭. যারা আল্লাহর নামে মিথ্যা বাণী বানায় বা আল্লাহর বাণীকে প্রত্যাখ্যান করে, তাদের চেয়ে বড় সীমালঙ্ঘনকারী আর কে হতে পারে? নিশ্চয়ই পাপীরা কখনো সুখী, সফল হতে পারে না।

৭:৩৭. যারা আল্লাহর বাণীকে প্রত্যাখ্যান করে বা নিজেদের মনগড়া কথাকে আল্লাহর কথা বলে প্রচার করে, তাদের চেয়ে বড় সীমালঙ্ঘনকারী আর কে হতে পারে? এ জীবনে ওদের যা পাওয়ার, বরাদ্দ অনুসারে ওরা তা পাবে। তারপর সময় শেষ হলে জান কবজের জন্যে আমার ফেরেশতা উপস্থিত হয়ে জিজ্ঞেস করবে, আল্লাহ ছাড়া যাদের উপাস্য হিসেবে উপাসনা করতে, তারা এখন কোথায়? ওরা তখন বলবে, ‘সব উধাও হয়ে গেছে।’ আর এভাবেই ওরা স্বীকার করবে যে, ওরা সত্য অস্বীকার করেছিল।

৭:৩৫. হে আদমসন্তান! যখনই আমার কোনো রসুল তোমাদের কাছে আমার বাণী বয়ান করবে, তখন যারা আল্লাহ-সচেতন হয়ে নিজেদের ভুলগুলো শুধরে নেবে, তাদের কোনো ভয়ের কারণ নেই আর তাদের কোনো দুঃখও থাকবে না। ৩৬. আর যারা অহংকারবশত আমার বাণীকে প্রত্যাখ্যান করবে, তারা জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে, সেখানেই তারা থাকবে চিরকাল।

৪১:১৫. আর আদ সম্প্রদায় তো জমিনের ওপর দম্ভ করে বেড়াত। বলত, ‘আমাদের চেয়ে শক্তিমান কে আছে?’ ওরা একবারও ভাবে নি, যে আল্লাহ ওদের সৃষ্টি করেছেন, তিনি ওদের চেয়ে অনেক অনেক শক্তিমান। আর তাই ওরা আমার বাণী ক্রমাগত প্রত্যাখ্যান করতে লাগল। ১৬. তারপর পার্থিব জীবনের আজাব হিসেবে ওদের ওপর কয়েকদিনে পর পর আপতিত হলো বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড়। আর আখেরাতের শাস্তি তো হবে আরো কঠিন, সেদিন ওদের সাহায্য করার কেউ থাকবে না।

৮:৫৪. ফেরাউন ও তাদের পূর্ববর্তীদের পরিণতি এ মূলনীতি অনুসারেই ঘটেছে। ওরাও এদের মতো প্রতিপালকের বাণী ও নির্দেশাবলিকে প্রত্যাখ্যান করেছিল। ওদের পাপের জন্যেই ওদের ধ্বংস করেছি। ফেরাউনের সম্প্রদায়কে পানিতে ডুবিয়েছি। ওরা সবাই ছিল জালেম।

৪৫:১১. এই কোরআন সৎপথের পূর্ণাঙ্গ দিশারি। (আর তা অনুসরণ করাই বিশ্বাসীর কাজ।) অপরদিকে যারা তাদের প্রতিপালকের বাণী ও নিদর্শনাবলি প্রত্যাখ্যান করে, তাদের জন্যে রয়েছে কঠিন যন্ত্রণাদায়ক আজাব।

৬:৪. প্রতিপালকের কাছ থেকে অতীতেও যখন কোনো বাণী এসেছে, তখনই সত্য অস্বীকারে লালায়িতরা সে বাণী থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। ৫. এখন যখন সত্য ওদের কাছে উপস্থিত হয়েছে, একইভাবে ওরা সত্যকে প্রত্যাখ্যান করেছে। যা নিয়ে ওরা ঠাট্টাবিদ্রুপ করছে, শিগগিরই ওরা এর বাস্তবতা টের পাবে।

৪০:৬১. আল্লাহ তোমাদের বিশ্রামের জন্যে রাত সৃষ্টি করেছেন আর সবকিছু দেখার জন্যে দিনকে করেছেন উজ্জ্বল। নিশ্চয়ই আল্লাহ মানুষের প্রতি অতি-অনুগ্রহশীল। কিন্তু অধিকাংশ মানুষই শুকরিয়া আদায় করে না। ৬২. অথচ আল্লাহই তোমাদের প্রতিপালক, সবকিছুর স্রষ্টা। তিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। আসলে কত বিভ্রান্ত হলে একজন এ সত্য থেকে দূরে যেতে পারে! ৬৩. যারা জেনেশুনে আল্লাহর বাণীকে অস্বীকার করে, তাদের মানসিকতাই বিকৃত হয়ে যায়। তারা বিভ্রান্তিতে ডুবে যায়।

৩৯:৬১. (মহাবিচার দিবসে) তিনি আল্লাহ-সচেতনদের পরিত্রাণ করবেন। কোনো অমঙ্গল বা দুঃখ তাদের স্পর্শ করবে না। ৬২. আল্লাহ সবকিছুর স্রষ্টা এবং তিনিই সবকিছুর অভিভাবক ও কর্মবিধায়ক। ৬৩. মহাবিশ্বের সকল (রহস্য উদঘাটনের) চাবি তাঁরই কাছে। যারা আল্লাহর বাণী ও বিধানকে অমান্য করে, পরিণামে তারাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

Print Friendly, PDF & Email

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।