১. সালাতে দাঁড়ানোর আগে গোসলঃ

… … … ‘হে মু‘মিনগণ! যখন তোমরা সালাতের জন্য দাঁড়াবে , তোমদের মুখমন্ডল ও হাত কনুই পর্যন্ত ধৌত করবে এবং মাথা ও পা প্রন্থি পর্যন্ত মাসেহ করবে; যদি তোমরা অপবিত্র থাক, তবে বিশেষভাবে পবিত্র হবে … … (সূরা-৫, মায়িদা, আয়াত-৬)।

২. সালাতের জন্য নির্দিষ্ট স্থানঃ

… … … ‘যখন গৃহকে মানবজাতির মিলনকেন্দ্র ও নিরাপত্তাস্থল করেছিলাম এবং তোমরা মাকামে ইবরহীমকে (ইবরাহীমের বাড়িকে) সালাতের স্থানরূপে গ্রহণ কর … … (২:১২৫)।… … … আমি মূসা ও তার ভাইকে ওহী করলাম, মিশরে (শহরে) তোমাদের সম্প্রদায়ের জন্য গৃহ স্থাপন কর এবং তোমাদের গৃহগুলোকে কিবলা (ইবাদতের স্থান) কর, সালাতে দাঁড়াও এবং মু‘মিনদেরকে সুসংবাদ দাও (সূরা-১০, ইউনুস, আয়াত-৮৭)। [সালাত পড়বে মু‘মিনগণ!]

৩. ইবরাহীমকে সালাতে দাঁড়াতে বলেছিলেনঃ

… … … যখন আমি ইবরাহীমের জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছিলাম সেই গৃহের স্থান, আমার সাথে কোন শরিক স্থির করবে না এবং আমার গৃহকে পবিত্র রেখ তাদের জন্য যারা তাওয়াফ করে ও যারা (সালাতে) দাঁড়ায় এবং রুকু-সিজদা করে (নত হয়ে আমার আদেশ-নিষেধ মেনে নেয়);-২২:২৬।

৪. সালাত দাঁড়িয়ে পড়ার নির্দেশঃ

… … … তোমরা সালাওয়াতের প্রতি যত্নবান হবে এবং সালাতিল উসতা। আর আল্লাহর উদ্দেশ্যে বিনীতভাবে দাঁড়াবে; যদি তোমরা আশংকা কর তবে পদচারী অথবা আরাহী আবস্থায়। আর যখন তোমরা নিরাপদ বোধ কর তখন আল্লাহকে স্মরণ করবে, যে ভাবে তিনি তোমাদেরকে শিক্ষা দিয়েছেন, যা তোমরা জানতে না (সূরা-২, বাকারা, আয়াতঃ ২৩৮-২৩৯)। [সালাওয়াত বলতে আল্লাহর সকল আদেশ-নিষেধকে বুঝানো হয়।]

৫. সালাত দাঁড়িয়ে পড়ার দৃষ্টান্তঃ

ক. ‘যখন যাকারিয়া মেহরাবে (কক্ষে) সালাতে দাঁড়িয়েছিলেন তখন মালাইকা তাকে সম্বোধন করে বলল, ‘আল্লাহ তোমাকে ইয়াহইয়ার সুসংবাদ দিচ্ছেন, সে হবে আল্লাহর বাণীর সমর্থক, সর্দার, স্ত্রী বিরাগী এবং সালেহীনের অন্তুর্ভূক্ত (সূরা-৩, আলে- ইমরান, আয়াতঃ ৩৯)।… … …

খ. ‘আর তুমি যখন তাদের মধ্যে অবস্থান করবে ও তাদের সংগে সালাতে দাঁড়াবে তখন তাদের একদল যেন তোমার সাথে সালাতে দাঁড়ায় এবং তারা যেন সশস্ত্র থাকে। তাদের সিজদা (মান্য) করা হলে তারা যেন তোমাদের পিছনে অবস্থান করে … … (সূরা-৪, নিসা, আয়াত-১০২)।… … …

গ. ‘নিশ্চয়ই মুনাফিকগণ আল্লাহর সাথে ধোঁকাবাজি করে; বস্তুতঃ তিনি তাদেরকে তার শাস্তি দেন আর যখন তারা সালাতে দাঁড়ায় তখন শৈথিল্যের সাথে দাড়ায়, কেবল লোক দেখানোর জন্য এবং আল্লাহকে তারা অল্পই স্মরণ করে; দোটানায় দোদুল্যমান, না এদের দিকে, না ওদের দিকে … … (সূরা-৪, নিসা, আয়াতঃ ১৪২-১৪৩)। … … …

ঘ. ‘তুমি নির্ভর কর পরাক্রমশালী, পরম দয়ালূর উপর, যিনি তোমাকে দেখেন যখন তুমি দণ্ডায়মান হও, এবং দেখেন সিজদাকারীদের (মান্যকারীদের) সাথে তোমার উঠাবসা (সূরা-২৬, শু‘আরা’ আয়াতঃ ২১৭-২১৯)।… … …

ঙ. ‘সালাত সমাপ্ত হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়ায়ে পড়বে এবং আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধান করবে ও আল্লাহকে অধিক স্মরণ কর করবে যাতে তোমরা সফলকাম হও। যখন তারা দেখল ব্যবসায় ও কৌতুক তখন তারা তোমাকে দাঁড়ানো অবস্থায় রেখে তাদের দিকে ছুটে গেল। বল, ‘আল্লাহর নিকট যা আছে তা ক্রীড়া-কৌতুক ও ব্যবসসায় অপেক্ষা উৎকষ্ট। আল্লাহ উত্তম রিযকদাতা (সূরা-৬২, জুমু‘আ, আয়াতঃ ১০-১১)।… … …

চ. আর এই যে, যখন আল্লাহর বান্দা তাঁকে ডাকার জন্য দণ্ডায়মান হল তখন তারা তার নিকট ভিড় জমাল। বল, ‘আমি আমার রবকেই ডাকি এবং তাঁর সংগে কাউকে শরিক করি না।’ বল, ‘আমি তোমাদের ইষ্ট-অনিষ্টের মালিক নই।’ বল, ‘আল্লাহর শাস্তি হতে কেউই আমাকে রক্ষা করতে পারবে না এবং আল্লাহ ব্যতিত আমি কোন আশ্রয়ও পাব না, ‘কেবল আল্লাহর পক্ষ হতে পৌঁছানো এবং তাঁর বাণী প্রচারই আমার দায়িত্ব। যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে অমান্য করে তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের অগ্নি, সেথায় তারা চিরস্থায়ী হবে। যখন তারা প্রতিশ্রুত শাস্তি প্রত্যক্ষ করবে, বুঝতে পারবে, কে সাহায্যকারীর দিক দিয়ে দুর্বল এবং কে সংখ্যায় অল্প (সূরা-৭২, জিন, আয়াতঃ ১৯-২৪)।

৬. প্রত্যেকটি বিষয় কুরআন থেকে বলতে হবেঃ

… … … তুমি যে কোন অেবস্থায় থাক এবং কুরআন থেকে তৎসম্পর্কে কুরআন হতে যা তিলাওয়াত কর এবং তোমরা যে কোন কার্য কর, আমি তোমাদের পরিদর্শক- যখন তোমরা তাতে প্রবৃত্ত হও … … (সূরা-১০, ইউনুস, আয়াত-৬১)। কুরআন পাঠের আগে আঊযূবিল্লহ পড়ার নির্দেশ (১৬:৯৮)। যে কোন কাজ সম্পর্কেই রাসূল কুরআন থেকে পড়তেন (১০:৬১)। সুতরাং সালাত শুরু করেন কুরআনের আয়াত দিয়ে শয়তানের প্ররোচনা হতে আশ্রয় চেয়ে (২৩:৯৭-৯৮)।

৭. সালাত বুঝে পড়ার নির্দেশঃ

… … … ‘হে মিু‘মিনগণ! নেশাগ্রস্ত অবস্থায় তোমরা সালাতের নিকটবর্তী হইও না, যতক্ষণ না তোমরা যা বল তা বুঝতে পার।, এবং যদি তোমরা মুসাফির না হও তবে অপবিত্র অবস্থাতেও নয়, যতক্ষণ পর্যন্ত তোমরা গোসল কর .. …(সূরা-৪, নিসা, আয়াত-৪৩)।

… … … যে বিষয়ে তোমার জ্ঞান নাই তার অনুসরণ করো না; কর্ণ, চক্ষু, হৃদয়- তাদের প্রত্যেকটি সম্পর্কে কৈফিয়ত তলব করা হবে (সূরা-১৭, বনী ইসরাঈল, আয়াত-৩৬)।

৮. সালাত মধ্যম স্বরে পড়ার নির্দেশঃ

… … … ‘বল, ‘তোমরা আল্লাহ ডাক বা রহমান ডাক, তোমরা যে নামেই আহ্বান কর সকল সুন্দর নাম তো তাঁর। তোমার সালাতের স্বর উচ্চ করো না এবং অতিশয় ক্ষীণও করো না; এই দুইয়ের পধ্যপথ অবলম্বন কর (সূরা-১৭, বনী ইসরাঈল, আয়াত-১১০)। … … … ‘যখন কুরআন পাঠ করা হয় তখন তোমরা মনোযোগের সাথে তা শ্রবণ করবে এবং নিশ্চুপ হয়ে থাকবে যাতে তোমাদের প্রতি দয়া করা হয় (৭:২০৪)।

৯. সালাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনাঃ

… … … ‘তোমরা ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা কর এবং এ বিনীতগণ ব্যতীত আর সকলের নিকট নিশ্চিতভাবে কঠিন (সূরা-২, বাকারা, আয়াত-৪৫)।

… … … ‘হে মু‘মিনগণ! তোমরা ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন (সূরা-২, বাকারা, আয়াত-১৫১)।

১০. রবের স্মরণে সালাত পড়ার নির্দেশঃ

… … … ‘আমিই আল্লাহ, আমা ব্যতীত কোন ইলাহ নাই। অতএব আমার দাসত্ব কর এবং আমার স্মরাণার্থে সালাতে দাঁড়াও (সূরা-২০, তা-হা, আয়াত-১৪)। উক্ত আয়াত অনুসারে ‘রাব্বি ও রাব্বানাযুক্ত প্রার্থনা মূলক আয়াত দিয়ে সালাত পড়তে হবে।]

১১. কুরআন পাঠের আগে আঊযূবিল্লাহ পাঠের নির্দেশঃ

…. … … ‘যখন কুরআন পাঠ করবে তখন অভিশপ্ত শয়তান হতে আল্লাহর শরণ নিবে, নিশ্চয়ই তার কোন আধিপত্য নেই তাদের ওপর যারা ঈমান আনে ও তাদের রবের ওপর নির্ভর করে। তার আধিপত্য তো কেবল তাদেরই ওপর যারা তাকে আঊলিয়ারূপে গ্রহণ করে এবং যারা আল্লাহর শরিক করে (সূরা-১৬, নামল, আয়াতঃ ৯৮-১০০)। … … … বল, ‘আমার রব! আমি আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করি শয়তানের প্ররোচনা হতে, আমার রব! আমি আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করি আমার নিকট তাদের উপস্থিতি হতে (সূরা-২৩, আয়াতঃ ৯৭-৯৮)। [কুরআন থেকে প্রত্যেকটি আয়াত পাঠ করতে হবে (১০:৬১)। সুতরাং সালাত শুরু হবে ২৩:৯৭-৯৮ আয়াত দিয়ে।]

১২. আগে পরিশুদ্ধ (যাকাত), পরে রবের স্মরণ ও তারপরে সালাহ (প্রার্থনা)

… … … নিশ্চয়ই সাফল্য লাভ করবে যে পরিশুদ্ধ হয় (যাকাত দেয়) এবং রবের নাম স্মরণ করে ও সাল্লা (প্রার্থনা) করে (সূরা-৮৭, আ‘লা, আয়াতঃ ১৪-১৫)।

… … … সেথায় তাদের ধ্বণি হবেঃ আল্লাহ! আপনি মাহান, পবিত্র এবং সেথায় তাদের অভিবাদন হবে, সালামুন এবং শেষ ধ্বণি হবে এইঃ ‘সকল প্রশংসা জগতসমূহের রব আল্লাহর প্রাপ্য (সূরা-১০, ইউনুস, আয়াত-১০)।

[সূরা ফাতিহাকে আদর্শ ধরে সালাত পড়তে হবে। সূরা ফাতিহার সাড়ে তিন আয়াত হামদ ও সাড়ে তিন আয়াত প্রার্থনা। সুতরাং সালাতের শুরুতে সাব্বিহ-হমাদ মূলক কিছু আয়াত এবং পরে প্রার্থনা মূলক আয়াত পাঠ করে হামদের মাধ্যমে সালাত শেষ হবে।]

… … … যারা তাদের রবের আয়াত স্মরণ করায়ে দিলে তার প্রতি অন্ধ ও বধির সদৃশ আচরণ করে না (সূরা-২৫, ফুরকান, আয়াত-৭৩)।

… … … সুসংবাদ দাও আমার বান্দাদেরকে- যারা মনোযোগ সহকারে কথা ‍শুনে এবং তার মধ্যে যা উত্তম তা গ্রহণ করে। তাদেরকেই আল্লাহ সৎপথে পরিচালিত করেন এবং তারাই বোধশক্তি সম্পন্ন (সূরা-৩৯, যূমার, আয়াতঃ ১৭-১৮)।3

সুত্র

Print Friendly, PDF & Email

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।