সত্য কখনো গোপন থাকেনা গ্রন্থের সংকলক, আমিরুল ইসলাম যেভাবে যাকাত আদায় ও বন্টন করেন:

তিনি প্রায় বিগত ৬ বছর যাবত (২০১৪ সাল থেকে) এভাবে যাকাত ও সদকা আদায় ও বন্টন করে থাকেন।

কুরআন অনুসারে মুসলিম (২২:৭৮; ২৭:৮১; ৩০:৫৩) হিসাবে বিচ্ছিন্ন না হয়ে (৩:১০৩-১০৫) ‘আল্লাহ নির্ধারিত শরীয়তের (৫:৪৮; ৪৫:১৮)’ ইমাম (২১:৭৩; ৩২:২৪) হিসাবে রাসূলের (৫:৬৭) উপর অর্পিত মানব কল্যাণে যাকাত-সদকা আদায়-বন্টনের (৫৮:১২-১৩; ৯:৬০, ১০২-১৪; ৫৯:৭) দায়িত্ব পালন পালন করা হয়।

২:২৬৭; ৬:১৪১; ৫৯:৭ (৮:৪১) আয়াত অনুসারে মাসিক (৯:৩৬) গণিমত / যাকাত-সদকা আদায়-বন্টন নিম্নরূপ।

হে ঈমানদারগণ! তোমরা স্বীয় উপার্জন থেকে এবং যা আমি তোমাদের জন্যে ভূমি থেকে উৎপন্ন করেছি, তা থেকে উৎকৃষ্ট বস্তু ব্যয় কর এবং তা থেকে নিকৃষ্ট জিনিস ব্যয় করতে মনস্থ করো না। কেননা, তা তোমরা কখনও গ্রহণ করবে না; তবে যদি তোমরা চোখ বন্ধ করে নিয়ে নাও। জেনে রেখো, আল্লাহ অভাব মুক্ত, প্রশংসিত। ২:২৬৭

তিনিই উদ্যান সমূহ সৃষ্টি করেছে-তাও, যা মাচার উপর তুলে দেয়া হয়, এবং যা মাচার উপর তোলা হয় না এবং খর্জুর বৃক্ষ ও শস্যক্ষেত্র যেসবের স্বাদবিশিষ্ট এবং যয়তুন ও আনার সৃষ্টি করেছেন-একে অন্যের সাদৃশ্যশীল এবং সাদৃশ্যহীন। এগুলোর ফল খাও, যখন ফলন্ত হয় এবং হক দান কর কর্তনের সময়ে এবং অপব্যয় করো না। নিশ্চয় তিনি অপব্যয়ীদেরকে পছন্দ করেন না। ৬:১৪১

আল্লাহ জনপদবাসীদের কাছ থেকে তাঁর রসূলকে যা দিয়েছেন, তা আল্লাহর, রসূলের, তাঁর আত্নীয়-স্বজনের, ইয়াতীমদের, অভাবগ্রস্তদের এবং মুসাফিরদের জন্যে, যাতে ধনৈশ্বর্য্য কেবল তোমাদের বিত্তশালীদের মধ্যেই পুঞ্জীভূত না হয়। রসূল তোমাদেরকে যা দেন, তা গ্রহণ কর এবং যা নিষেধ করেন, তা থেকে বিরত থাক এবং আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা। ৫৯:৭

নিশ্চয় আল্লাহর বিধান ও গননায় মাস বারটি, আসমানসমূহ ও পৃথিবী সৃষ্টির দিন থেকে। তন্মধ্যে চারটি সম্মানিত। এটিই সুপ্রতিষ্ঠিত বিধান; সুতরাং এর মধ্যে তোমরা নিজেদের প্রতি অত্যাচার করো না। ৯:৩৬

মনে করেন, 

৫টি পরিবারের আয় ও লোক সংখ্যা নিম্নরূপ।

১ম পরিবারের মাসিক আয় = ১,৫০০ টাকা, পরিবারের জনসংখ্যা = ৪ জন

২য় পরিবারের মাসিক আয় = ২,০০০ টাকা, পরিবারের জনসংখ্যা = ৩ জন

৩য় পরিবারের মাসিক আয় = ৩,৫০০ টাকা, পরিবারের জনসংখ্যা = ৬ জন

৪র্থ পরিবারের মাসিক আয় = ৫,০০০ টাকা, পরিবারের জনসংখ্যা = ২ জন

৫ম পরিবারের মাসিক আয় = ১২,৫০০ টাকা, পরিবারের জনসংখ্যা = ৫ জন

৮:৪১ আয়াত 

আর এ কথাও জেনে রাখ যে, কোন বস্তু-সামগ্রীর মধ্য থেকে যা কিছু তোমরা গনীমত (অর্জন / আয়) হিসাবে পাবে, তার এক পঞ্চমাংশ হল আল্লাহর জন্য, রসূলের জন্য, তাঁর নিকটাত্নীয়-স্বজনের জন্য এবং এতীম-অসহায় ও মুসাফিরদের জন্য; যদি তোমাদের বিশ্বাস থাকে আল্লাহর উপর এবং সে বিষয়ের উপর যা আমি আমার বান্দার প্রতি অবতীর্ণ করেছি ফয়সালার দিনে, যেদিন সম্মুখীন হয়ে যায় উভয় সেনাদল। আর আল্লাহ সব কিছুর উপরই ক্ষমতাশীল।

অনুসারে, উক্ত ৫টি পরিবারের মাসিক মোট আয়ের ৫ ভাগের ১ ভাগ 

= (৩০০+৪০০+৭০০+১,০০০+২,৫০০) টাকা

= ৪,৯০০ টাকা।

উক্ত ৫টি পরিবারের মোট জন সংখ্যা = (৪+৩+৬+২+৫) জন

= ২০ জন।

এখন, ফাও হিসাবে (৫৯:৭; ৯২:১৮-২১) পাওয়া ৪,৯০০ টাকা থেকে আমি (আমেল/রাসূল/ইমাম হিসাবে মু‘মিনদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে) ৯০০ টাকা রেখে দিব, উক্ত ৫টি পরিবারের ভবিষ্যতে যে কোন অপ্রত্যাশিত বিপদ (অসুখ/দুর্ঘটনা) থেকে মুক্তি ও কর্মসংস্থানের জন্য প্রত্যাশায়।

২০ জনের প্রত্যেকে মাথা-পিছু মাসিক ভাতা= (৪,০০০-:-২০) টাকা।

= ২০০ টাকা।

প্রত্যেক মাসে মাসিক এই ভাতা আয় হলেও পাবে, আয় না হলেও পাবে। 

তবে গড়ে মাসিক আয় বাড়লে মাসিক ভাতাও বাড়বে।

১ম পরিবার মাসিক ভাতা পাবে = (২০০x৪) টাকা = ৮০০ টাকা

২য় পরিবার মাসিক ভাতা পাবে = (২০০x৩) টাকা = ৬০০ টাকা

৩য় পরিবার মাসিক ভাতা পাবে = (২০০x৬) টাকা = ১২০০ টাকা

৪র্থ পরিবার মাসিক ভাতা পাবে = (২০০x২) টাকা = ৪০০ টাকা

এবং ৫ম পরিবার মাসিক ভাতা পাবে = (২০০x৫) টাকা = ১০০০ টাকা

এখন, ১ম পরিবার দিয়েছিল মাত্র ৩০০ টাকা। মাসিক ভাতা পেল ৮০০ টাকা। তার মানে উক্ত মাসে সে ৫০০ টাকা বেশি পেল।এতেও তার চলতে কষ্ট হয়। তাই যার মাসে ১২,৫০০ টাকা আয় –  আমি ইমাম (রাসূল-৯:১০২-১০৩) দীনের ভাই (৯:১১; ৪৯:১০) হিসাবে তার নিকট থেকে সদকা নিব ২,০০০ টাকা। 

এবার ৯:৬০ আয়াত 

সদকা হল কেবল ফকির, মিসকীন, যাকাত আদায় কারী ও যাদের চিত্ত আকর্ষণ প্রয়োজন তাদে হক এবং তা দাস-মুক্তির জন্যে-ঋণ গ্রস্তদের জন্য, আল্লাহর পথে জেহাদকারীদের জন্যে এবং মুসাফিরদের জন্যে, এই হল আল্লাহর নির্ধারিত বিধান। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়। 

৯:৬০ অনুসারে প্রয়োজনে (কম/বেশি) আমি ২০০ টাকা রাখব, 

১ম পরিবারকে অতিরিক্ত আরও দিব ১,০০০ টাকা 

২য় পরিবারকে অতিরিক্ত আরও সদকা দিব ৭০০ টাকা।

এবং ভবিষ্যতে বিপদাপদ ও কর্মসংস্থানের জন্য ১০০ টাকা রেখে দিব।

এক্ষেত্রে যাকাত ও সদকা থেকে উক্ত ৫টি মু‘মিন পরিবারের জন্য ভবিষ্য তহবিলে জমা থাকল (৯০০+১০০) বা ১,০০০ টাকা।

এখন, ১ম ব্যক্তির ১,৫০০ টাকা আয়, সে যাকাত হিসাবে দিল ৩০০ টাকা আর উক্ত মাসে যাকাত-সদকা পেল (৮০০+১০০০) বা, ১৮০০ টাকা। তার মানে সে ঐ মাসে ১,৫০০ টাকা বেশি পেল।

২য় ব্যক্তি যাকাত হিসাবে দিয়েছিল ৪০০ টাকা, সে উক্ত মাসে যাকাত-সদকা পেল (৬০০+৭০০) বা, ১,৩০০ টাকা। তার মানে সে ঐ মাসে ৯০০ টাকা বেশি পেল।

এভাবেই প্রত্যেক মাসেই কিছু কুরআন অনুসারে মুসলিম তাদের যাকাত-সদকা আমাকে দেন, আর আমি তা আলোচনার মাধ্যমে বন্টন করি। এতে দরিদ্ররা কিছুটাও হলে উপকৃত হয়।

আমি কিছু মু‘মিনদের সাথে পরামর্শের (কাজে কর্মে তাদের পরামর্শ করুন – ৩:১৫৯) মাধ্যমে যা দিয়েছি তা প্রত্যেকেই আল্লাহর (৫৯:৭) আয়াত অনুসারে নিতে বাধ্য। 

**** ব্যতিক্রম (৮০:১-৪) ছাড়া যারা নিজ ভাষায় কুরআন বুঝে না এবং আরবি পড়তে পারে না (২০:১২৪-১২৭) তাদের নিকট থেকে কোন প্রকার যাকাত-সদকা গ্রহন করা হয় না। সালাত ও যাকাতে অনিয়মিত হলেও তার অর্থ গ্রহন করা হয় না (৯:৫৩-৫৪)।

Print Friendly, PDF & Email

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।