আল কুরআনে সুন্নাত শব্দটি একবচনে ৯টি আয়াতে এবং বহুবচনে ২টি আয়াতে ব্যবহৃত হয়েছে।এর মধ্যে ৫টি আয়াতে বলা হয়েছে ‘সুন্নাতাল্লাহ’ তথা ‘আল্লাহর প্রবর্তিত নীতি/ বিধি’।

আয়াতগুলো হচ্ছে, ১৭:৭৭, ৩৩:৩৮, ৩৩:৬২, ৪০:৮৫, ৪৮:২৩।

তোমার পূর্বে আমি আমার যে সব রসূল পাঠিয়েছিলাম তাদের ক্ষেত্রে এটাই ছিল নিয়ম (সুন্নাতা) আর তুমি আমার নিয়মের (লি সুন্নাতিনা) কোন পরিবর্তন দেখতে পাবে না। – ১৭:৭৭

আল্লাহ নাবীর জন্য যা বিধি সম্মত করেছেন তা করতে তার জন্য কোন বাধা নেই। পূর্বে যে সব নাবী অতীত হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রেও এটাই ছিল আল্লাহর বিধান (সুন্নাতাল্লাহ)। আল্লাহর বিধান সুনির্ধারিত। – ৩৩:৩৮

পূর্বে যারা অতীত হয়ে গেছে তাদের ব্যাপারে এটাই ছিল আল্লাহর বিধান (সুন্নাতাল্লাহ)। তুমি কখনও আল্লাহর বিধানে কোন পরিবর্তন পাবেনা। – ৩৩:৬২

তারা যখন আমার শাস্তি প্রত্যক্ষ করল তখন তাদের ঈমান তাদের কোন উপকারে এলোনা। আল্লাহর এই বিধান (সুন্নাতাল্লাহ) পূর্ব হতেই তার বান্দাদের মধ্যে চলে আসছে এবং সেই ক্ষেত্রে কাফিরেরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। – ৪০:৮৫

তোমাদের পূর্বে যারা গত হয়েছে তাদের ব্যাপারে এটি আল্লাহর নিয়ম; আর তুমি আল্লাহর নিয়মে কোন পরিবর্তন পাবে না। – ৪৮:২৩


আর ৪টি আয়াতে বলা হয়েছে ‘সুন্নাতুল আওয়ালীন’ তথা ‘(কুরআন নাযিলের) পূর্ববর্তীদের ক্ষেত্রে প্রয়োগকৃত নীতি/ বিধি’। আয়াতগুলো হচ্ছে, ৮:৩৮, ১৫:১৩, ১৮:৫৫, ৩৫:৪৩।

তুমি কাফিরদেরকে বলঃ তারা যদি অনাচার থেকে বিরত থাকে তাহলে তাদের পূর্বের অপরাধ যা হয়েছে তা আল্লাহ ক্ষমা করবেন। কিন্তু তারা যদি অন্যায়ের পুনরাবৃত্তি করে তাহলে পূর্ববর্তীদের দৃষ্টান্ততো রয়েছেই।– ৮:৩৮

তারা এর প্রতি ঈমান আনবে না, পূর্ববর্তী লোকেদেরও এ নিয়ম-নীতি চলে এসেছে। – ১৫:১৩

আর যখন তাদের কাছে পথনির্দেশ আসে তখন মানুষকে ঈমান আনা ও তাদের রবের কাছে ক্ষমা চাওয়া থেকে বিরত রাখে শুধু এ যে, তাদের কাছে পূর্ববর্তীদের বেলায় অনুসৃত রীতি আসুক অথবা আসুক তাদের কাছে সরাসরি জবাব। – ১৮:৫৫

যমীনে উদ্ধত আচরণ ও কূটচক্রান্তের কারণে। কিন্তু কূটচক্রান্ত কেবল তার ধারককেই পরিবেষ্টন করবে। তবে কি তারা পূর্ববর্তীদের (উপর আল্লাহর) বিধানের অপেক্ষা করছে? কিন্তু তুমি আল্লাহর বিধানের কখনই কোন পরিবর্তন পাবে না এবং তুমি আল্লাহর বিধানের কখনই কোন ব্যতিক্রমও দেখতে পাবে না। – ৩৫:৪৩


এর মধ্যে ১৭:৭৭ আয়াতের প্রথমাংশে বলা হয়েছে, ‘সুন্নাতু মান ক্বাদ আরছালনা ক্বাবলাকা মির রুসুলিনা’ তথা ‘তোমার আগে আমি আমার যেসব রসূলদেরকে প্রেরণ করেছি তাদের ক্ষেত্রে প্রয়োগকৃত নীতি/ বিধি’।বাক্যে ব্যবহারের দিক থেকে এ আয়াতের অনুরূপ ব্যাকরনিক প্যাটার্নে বহুবচনে ‘সুনান’ শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে ৪:২৬ আয়াতে, ‘সুনানাল্লাযীনা মিন ক্বাবলিকুম’ তথা ‘তোমার আগে যারা ছিল তাদের ক্ষেত্রে প্রয়োগকৃত নীতিসমূহ/ বিধিসমূহ’।

এছাড়া ৩:১৩৭ আয়াতে ‘সুনান’ তথা ‘নীতিসমূহ/ বিধিসমূহ’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে, যাতে বলা হয়েছে, ‘ক্বাদ খালাত মিন ক্বাবলিকুম সুনান, ফাছীরূ ফিল আরদি ফানযুরূ কায়ফা কানা আক্বিবাতুল মুকাযযিবীন?’ অর্থাৎ ‘নিশ্চয় তোমাদের আগে বহু নীতি/ বিধি অতিবাহিত (প্রয়োগকৃত) হয়েছে, সুতরাং তোমরা পৃথিবীতে ভ্রমণ করে দেখ, কিরূপ হয়েছিল সত্যকে মিথ্যা সাব্যস্তকারীদের পরিণতি?’।

সুতরাং আল কুরআনে একবারও ‘সুন্নাতু রসূলুল্লাহ’ বা ‘রসূলুল্লাহর সুন্নাত’ শব্দটি ব্যবহৃত হয় নি। আল কুরআনের আলোকে এ কথা স্পষ্ট যে, রসূলুল্লাহর নিজে থেকে প্রবর্তিত কোন সুন্নাত থাকতে পারে না। আল্লাহ প্রদত্ত সুন্নাতই রসূল বাস্তবায়ন করেছেন।

কুরআনিক পরিভাষায় “সুন্নাতাল্লাহ” হলো “আল্লাহর নিয়ম বা পন্থা”।


শওকত জাওহার / credit

Print Friendly, PDF & Email

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।