আল্লাহ প্রত্যেক সম্প্রদায় (উম্মাত) -কে কুরবানী (মানাসিক, এখানে কনটেক্স অনুসারে যার অর্থ কুরবানী) নিয়ম দিয়েছেন। সুরা হজ্জ ২২:৩৪। সুতরাং স্রষ্টাকে নিবেদন করে পশু উৎসর্গ একটি সার্বজনীন আচার-অনুষ্ঠান যা সকল সম্প্রদায়ের / সমাজে পাওয়া যায়।

হজ্জ অনুষ্ঠানে হাদিয়ার পশুগুলোকে উৎসর্গ করার নিদির্ষ্ট স্থান হলো বায়তুল আত্বিক বা কাবা। ২২:৩৩। সুতরাং যারা হজ্জ পালন করবে তাদের মধ্যে সামর্থবানরা কাবার ব্যবস্থাপকদের কাছে হাদিয়া প্রদান করবে এবং এই নিদির্ষ্ট স্থানটি হজ্জের কনটেক্সটে বায়তুল আত্বিকএর অর্থ এই নয় যে অন্য কোথাও পশু উৎসর্গ করা যাবে না।

হজ্জে অংশগ্রহণকারী ছাড়া অন্যদের জন্য নির্দিষ্ট স্থান এবং নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া নেই। তবে সংহতি প্রকাশ করার জন্য হজ্জের সাথে মিল করে অন্যান্য স্থানে যারা হজ্জে যায় নি তারাও কুরবানী করলে তাতে আপত্তি নেই।

প্রত্যেক পরিবার, প্রত্যেক বছর হজ্জের সময় যে কুরবানী করতেই হবে এমনটি কুরআন বাধ্য করে না। এবং এটি Environmentally sustainable নয়, প্রাকৃতিকও নয়। স্রষ্টার কিতাব কুরআনে প্রাকৃতিক নিয়মের লংঘন হবে এরকম কোন বিধান নেই।

একটি বস্তিতে ২০টি ঘর আছে, তারা সবাই মিলে একটি গরু কুরবানী দিতে পারবে যদি তারা চায়, না পারার কোন বাধা কুরআনে নেই। কুরবানী পশু যেমন একটি গরুর ভাগ: ৭ ভাগ বা তার নীচে হতে হবে এরকম লিমিটেশন মানুষের সৃষ্ট, কুরআনের নয়। বরং এরকম স্বআরোপিত লিমিটেশনের ফলে অনেক গরীব কুরবানীর আনন্দ ও সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

ইনফ্যাক্ট কুরবানী এই সব গরীরের জন্য বেশি প্রযোজ্য। যারা দুই দিন অন্তর অন্তর গরুর গোস্ত কিনে খেতে পারে তার থেকে ঐসব গরীব মানুষের জন্য কুরবানী বেশি কল্যানকর। কেননা কুরবানীর অন্যতম উদ্দেশ্য হলো বঞ্চিত ও যার প্রয়োজন আছে তাকে কুরবানীর গোস্ত খাওয়ানো (২২:২৮, ২২:৩৬)।


এক কথায়: প্রত্যেক পরিবারের প্রতি বছর কুরবানী করা কুরআনিক কোন আদেশ ও হুকুম নয়।

Print Friendly, PDF & Email

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।